হজ্জ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা-মাসায়েল

3 months ago admin 0

প্রশ্ন : হজের বিধান কি এবং কোন শ্রেণীর মানুষের উপর হজ ফরয? জানতে চাই।

উত্তর :

১.       সামর্থবান ব্যক্তিদের উপর জীবনে একবার হজ পালন করা ফরয। আল্লাহ তালা এরশাদ করেন, যেসব মানুষ মক্কায় গমনের সামর্থ্য রাখে তাদের উপর আল্লাহ তালার জন্য এ ঘরের হজ পালন করা ফরয। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইসলামের ভিত্তি হলো পাঁচটি। ১. এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ তালা ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তালার রাসূল ২. নামায প্রতিষ্ঠা করা ৩. যাকাত প্রদান করা ৪. আল্লাহর ঘরের হজ পালন করা ৫. রমাযানের রোজা রাখা।

২.       যে ব্যক্তির নিকট মক্কা শরীফ থেকে হজ পালন করে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত পরিবারের আবশ্যকীয় ব্যয় ব্যতিরেকে মক্কা শরীফ যাতায়াতের মোটামুটি খরচ পরিমাণ অর্থ রয়েছে তার উপর হজ পালন করা ফরয। হজ ফরয হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক পণ্য এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমির মূল্য ও বিবেচিত হবে।

৩.      মেয়েলোকের জন্য নিজ স্বামী বা নিজের কোনো বিশ্বস্ত ধার্মিক মাহরাম ব্যতীত হজ পালন করা অনুমোদিত নয়।অন্ধ এবং নাবালক শিশুর উপর হজ পালন করা ফরয নয়।- সূরা আলে ইমরান ৯৭, সহীহ বুখারী, হাদীস ৮, আদদুররুল মুখতার ৩/৪৫০, ৪৬৪, বাদাইউস সানায়ি’ ২/৩৬৪

প্রশ্ন : হজ্জের ফরযসমূহ কি কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর : হজের ক্ষেত্রে ফরয বিষয়গুলো হলো,

১.       ইহরাম বাঁধা।

২.       উকুফে আরাফা।

৩.      তওয়াফে যিয়ারত।- আদদুররুল মুখতার ৩/৪৬৮, ৪৬৯, ৪৭৩, নূরুল ইযাহ ওয়া নাজাতুল আরওয়াহ ১/৭৫, আলফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু ৩/৪৮২।

প্রশ্ন : হজ্জের ওয়াজিবসমূহ কি কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর : হজের ওয়াজিব বিষয়গুলো হলো,

১.       উকুফে মুজদালিফা।

২.       সাফা মারওয়ায় সায়ী করা।

৩.      পাথর নিক্ষেপ করা।

৪.       হজ্জে কিরান বা তামাত্তুর ক্ষেত্রে কুরবানী করা।

৫.       মাথা মুণ্ডানো বা চুল খাটো করা।

৬.       তওয়াফে বিদা ইত্যাদি।

এক্ষেত্রে সার্বিক মূলনীতি হলো, হজের যেসব কাজ পরিত্যাগের ফলে দম তথা রক্তপণ প্রদান করতে হয় সেসব কাজ হজের ক্ষেত্রে ওয়াজিব বলে গণ্য।-আদদুররুল মুখতার ৩/৪৬৮, ৪৬৯, ৪৭৩, নূরুল ইযাহ ওয়া নাজাতুল আরওয়াহ ১/৭৫, আলফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু ৩/৪৮২।

প্রশ্ন : হজ্জের সুন্নতসমূহ কি কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর : হজের ক্ষেত্রে সুন্নতসমূহ,

১.       সুগন্ধি ব্যবহার করা।

২.       হজের নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা।

৩.      প্রত্যেক নামাযের পর তালবিয়া পাঠ করা।

৪.       বাইতুল্লাহ দৃষ্টিগোচর হওয়ার সময় নিম্নোক্ত দুআটি নিম্নস্বরে পাঠ করা-

سبحان الله والحمد لله ولا إله إلا الله والله أكبر، اللهم هذا بيتك عظمته وشرفته وكرمته فزده تعظيماً وتشريفاً وتكريماً

৫.       দুআ প্রার্থনা, বিনম্রতা ও একাগ্রতার প্রতি খুব মনোযোগী হওয়া।

৬.       দিনের আলো বিকশিত হওয়া পর্যন্ত মুজদালিফায় অবস্থান করা।

৭.       জিলহজের ৮ তারিখ ভোরে মিনায় গমন করা।

৮.      ইয়াউমে আরাফার দিনে মিনায় রাত্রি যাপন করা।

৯.       ইয়াউমে তারবিয়ায় মিনাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা ।

১০.     ইয়াউমে নাহরের রাত্রে মুযদালিফায় রাত্রি যাপন করা।

১১.     তাশরীকের রাত্রিগুলোতে মিনাতে রাত্রি যাপন করা।

১২.     মিনা থেকে মক্কায় প্রস্থান করার পর মুহাসসাব উপত্যাকায় অবতরণ করা।

১৩.     হজের খুতবা প্রদান করা।

১৪.     উমরা আদায়ের পূর্বে হজ পালন করা।

১৫.     উকুফে আরাফার পূর্বে মক্কায় প্রবেশকারীদের জন্য তওয়াফে কুদুম করা।

১৬.     তওয়াফে কুদুম আদায়ান্তে মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দু রাকাত নামায আদায় করা।

১৭.     ইহরাম আদায়কালে সেলাইকৃত, বয়নকৃত এবং গিঁঠযুক্ত বস্ত্রাদি এবং জুতা-মুজা পরিধান থেকে বিরত থাকা। এবং সম্ভব হলে নতুন সাদা লুঙ্গি এবং চাদর নতুবা পরিস্কার লুঙ্গি এবং চাদর পরিধান করা।

১৮.     ইমাম সাহেবের চারটি খুৎবা প্রদান করা।

১৯.     নিম্নোক্তক্ত কার্যাবলির উদ্দেশে গোসল করা : ১. ইহরাম বাঁধা ২. হারাম এবং মক্কা শরীফে প্রবেশ করা ৩. উকুফে আরাফা ৪. উকুফে মুযদালিফা ৪. আইয়ামে তাশরিকের দিনগুলোতে রমি করা ৫. মদীনা শরীফে প্রবেশ করা।

২০.     যমযমের পানি পান করা।- আদদুররুল মুখতার ৩/৪৬৮, ৪৬৯, ৪৭৩, নূরুল ইযাহ ওয়া নাজাতুল আরওয়াহ ১/৭৫, আলফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু ৩/৪৮২।

প্রশ্ন : হজ্জের ক্ষেত্রে মুস্তাহাবসমূহ কি কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর : হজ আদায়ের ক্ষেত্রে মুস্তাহাব কার্যাবলী।

১.       ব্যয়কুণ্ঠ না হওয়া; বরং উদার হস্তে ব্যয় করা।

২.       সার্বক্ষণিক পাক পবিত্র অবস্থায় থাকা।

৩.      সর্বদা ভাষাকে সংযত রাখা।

৪.       মাতা পিতা, ঋণদাতা এবং জামিনের কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণ করা।

৫.       স্থানীয় মসজিদে দুই রাকাত নামায আদায় করে বিদায় হওয়া।

৬.       পরিচিতজনদের থেকে বিদায় গ্রহণ করা।

৭.       আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশীদের থেকে মাফ চেয়ে নেয়া এবং মাফ করে দেয়া।

৮.      তাদের থেকে দুআ গ্রহণ করা।

৯.       হজের উদ্দেশে বের হওয়ার সময় কিছু পরিমাণ দান করা।

১০.     সম্ভব হলে বৃহস্পতি, সোম অথবা শুক্রবার গৃহ ত্যাগ করা।

১১.     তওবা এস্তেগফার করে বের হওয়া।

১২.     হজ যাত্রা কোন পথে, কার সাথে করবে প্রভৃতি বিষয়ে এস্তেখারা করা।-আদদুররুল মুখতার ৩/৪৬৮, ৪৬৯, ৪৭৩, নূরুল ইযাহ ওয়া নাজাতুল আরওয়াহ ১/৭৫, আলফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু ৩/৪৮২।

প্রশ্ন : হজ কত প্রকার ও কি কি এবং কোন প্রকার হজ পালন করা তলনামূলক উত্তম জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর : হজ তিন প্রকার। যথা, ১. হজ্জে ইফরাদ ২. হজ্জে কেরান ৩. হজ্জে তামাত্তু। এই তিন প্রকার হজের মধ্য হতে প্রথমত হজ্জে কেরান করা উত্তম, এরপর হজ্জে তামাত্তু এরপর হজ্জে ইফরাদ।-আদদুররুল মুখতার ৩/৫৫৩।

প্রশ্ন : ইহরাম কি? ইহরাম সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি জানতে চাই।

উত্তর :

১.       নির্দিষ্ট বস্ত্র পরিধান পূর্বক হজ অথবা উমরা কিংবা হজ ও উমরা উভয়টির নিয়ত করত তালবিয়া পাঠ করা এবং বাইতুল্লাহ শরীফের তওয়াফ ও সাফা মারওয়া সায়ী করার পর মাথা মুণ্ডন করে বা চুল ছেটে মুক্ত হওয়া পর্যন্ত অবস্থাকে ইহরাম বলে।হজ বা উমরার উদ্দেশে যাত্রা করলে মীকাত তথা ইহরাম বাধার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করার পূর্বেই ইহরাম বেধে নেয়া আবশ্যক। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান প্রভৃতি পূর্বাঞ্চলীয় হাজ্জীদের জন্য ইহরাম বাধার নির্দিষ্ট স্থানটি হলো ইয়ালামলাম। ইয়ালামলাম মক্কা থেকে দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত একটি পর্বত শৃঙ্গের নাম। প্লেন এ স্থান বরাবর রেখা কখন অতিক্রম করে তা উপলব্ধি করা বেশ দুস্কর। তাই প্লেন যোগে হজ বা উমরা যাত্রীদের জন্য প্লেনে আরোহণ করার পূর্বেই ইহরাম বেধে নেয়া উচিৎ। বিমান বন্দরে গিয়ে, হাজী ক্যাম্প থেকে, বাসা বা মসজিদ যেকোনো স্থান থেকে ইহরাম বাধার অবকাশ রয়েছে।

২.       যারা প্রথমে মদীনা শরীফ গমনের ইচ্ছা পোষণ করেন তারা ইহরাম না বেধেই যাত্রা করবেন। কারণ মদীনা থেকে মক্কা গমনকারী হাজ্জীদের মীকাত হলো যুলহুলাইফা। বর্তমানে বীরে আলী নামে পরিচিত। তারা মদীনা যিয়ারত করে এ স্থান থেকে ইহরাম বেধে মক্কা শরীফ গমন করবেন।

৩.      মক্কা শরীফে অবস্থানরত ব্যক্তিবর্গ যদি নফল উমরা পালন করতে চান তাহলে ইহরাম বাধার জন্য তাদেরকে হারামের সীমানার বাহিরে গিয়ে ইহরাম বেধে আসতে হবে। এর জন্য সবচেয়ে উপযোগী এবং উত্তম স্থান হলো, তানয়ীম। বর্তমানে সেখানে মসজিদে আয়িশা নামে একটি মসজিদ রয়েছে। এ মসজিদে আয়েশায় গিয়ে ইহরাম বেধে নফল উমরা পালন করবেন। জেরানা নামক স্থান থেকেও ইহরাম বেধে আসা যায়।

৪.       ইহরাম বাধার ইচ্ছা হলে নখ কর্তন, বগল ও নিম্নাঙ্গের লোম পরিস্কারসহ যাবতীয় ক্ষৌর কার্য সম্পন্ন করা মুস্তাহাব। মাথা মুণ্ডানোতে অভ্যস্ত হলে মাথা মুণ্ডিয়ে নিবে নতুবা চুল আঁচড়িয়ে নিবে।

৫.       এরপর ইহরামের নিয়তে ভাল করে গোসল করে নিবে। নতুবা উযূ করে নিবে। এটা সুন্নত।

৬.       এরপর সেলাই বিহীন একটি সাদা লুঙ্গি এবং একটি চাদর পরিধান করবে। এক্ষেত্রে মহিলাগণ যে কোনো পোষাক পরিধান করতে পারেন। ইহরামের কাপড় নতুন বা পরিস্কার হওয়া উত্তম।

৭.       তারপর সুগন্ধি ব্যবহার করুন। এটা সুন্নত। এরপর ইহরামের নিয়তে দুই রাকাত নফল নামায আদায় করবে। এটা সুন্নত। এ নামায মাথায় টুপি দিয়ে বা মাথা আবৃত করে আদায় করতে হয়।

৮.      নামাযের পর টুপি খুলে রেখে কেবলামুখী অবস্থায় ইহরামের নিয়ত করতে হবে। বসে বসেই মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা উত্তম।

৯.       এরপর তালবিয়া পাঠ করবে। তালবিয়া পাঠ করা সুন্নত। তবে নিয়তের সাথে তালবিয়া বা যেকোনো জিকর হওয়া শর্ত। তালবিয়া উঁচু আওয়াজে তিনবার পাঠ করা সুন্নত। তবে মহিলাদের জন্য উঁচু আওয়াজে তালবিয়া পাঠ করা নিষিদ্ধ। তারা এতটুকু শব্দ করে তালবিয়া পাঠ করবে যাতে নিজ কানে শুনতে পারে। এরপর দুরুদ শরীফ পাঠ করবে এবং আল্লাহর কাছে নিজের উদ্দীষ্ট বিষয়ে দুআ প্রার্থনা করবে। নিয়ত করে তালবিয়া পাঠের মাধ্যমে ইহরাম বাধা সম্পন্ন হয়ে গেল।

১০.     মহিলাগণ ঋতুশ্রাব বা প্রসূতি অবস্থায় হলে নামায না পড়ে শুধু নিয়ত করে তালবিয়া পড়ে নিলেই ইহরাম শুরু হয়ে যাবে।- আদদুররুল মুখতার ৩/৪৮০, ৩৮৬-৩৮৮,৪৯২, রদদুল মুহতার ৩/৪৮৪, ফাতাওয়া হক্কানিয়া ৪/২৩৪, ২৬৫, কামূসুল ফিকহ ২/৪৪।

প্রশ্ন : ইহরাম অবস্থায় কি কি বিষয় নিষিদ্ধ জানতে চাই।

উত্তর : ইহরাম অবস্থায় যেসব বিষয় নিষিদ্ধ তা নিম্নরূপ :

১.       পুরুষের জন্য শরীরের পরিমাপ অনুসারে তৈরিকৃত সেলাই যুক্ত বস্ত্র পরিধান করা।

২.       পুরুষের জন্য মাথা ও চেহারা এবং মহিলাদের জন্য শুধু চেহারা আবৃত করা।

৩.      পুরুষের জন্য পায়ের মধ্যবর্তী উঁচু হাড় ঢাকা পড়ে যায় এমন জুতা বা সেন্ডেল পরিধান করা।

৪.       সর্বপ্রকার সুগন্ধি ব্যবহার করা।

৫.       নখ, চুল বা লোম ইত্যাদি কর্তন করা।

৬.       স্থল ভাগের প্রাণী শিকার করা বা তাতে কোনো রূপ সহযোগিতা করা। তবে মশা, মাছি জাতীয় কষ্টদায়ক প্রাণী মারাতে কোনোরূপ অসুবিধা নেই।

৭.       স্ত্রী সহবাস করা বা এতদ সম্পর্কিত কোনো আলোচনা বা শৃঙ্গার করা।

৮.      ঝগড়া-বিবাদ বা পাপাচারে লিপ্ত হওয়া।- রদদুল মুহতার ৩/৪৯৯, ৫৭১, আলবাহরুর রায়িক ২/৫৬০।

প্রশ্ন : ইহরাম অবস্থায় কি কি বিষয় মাকরূহ জানতে চাই।

উত্তর : ইহরাম অবস্থায় মাকরূহ বিষয়গুলো নিম্নে প্রদত্ত হলো :

১.       শরীরের ময়লা পরিস্কার করা।

২.       চুল, দাড়ি বা শরীরে সাবান ব্যবহার করা।

৩.      চুল বা উকুন পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয় এমনভাবে চুলকানো।

৪.       দাড়ি পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয় এমনভাবে দাড়ি খিলাল করা।

৫.       ইহরামের কাপড় সেলাই করে, গিরা দিয়ে বা পিন ইত্যাদি দিয়ে আটকানো।

৬.       বালিশের উপর মুখ দিয়ে উপুড় হয়ে শয়ন করা।

৭.       সুগন্ধিযুক্ত খাদ্য যদি পাকানো না হয় তা আহার করা।

৮.      উত্তেজনাসহকারে স্ত্রীর গুপ্তাঙ্গ দর্শন করা।

৯.       নাক, গলা কাপড় দিয়ে আবৃত করা।

১০.     এলাচি, লবঙ্গ বা সুগন্ধিযুক্ত তামাক বা জর্দাসহকারে পান খাওয়া।- বাদাইউস সানায়ি’ ২/৪০৮, ৪১৫, ৪১৮, আদদুররুল মুখতার ৩/৫০১, ৫৭৬,৫৭৭, হিদায়া ১/২৭০।

প্রশ্ন : সায়ী কি? সায়ী সংক্রান্ত জরুরী বিষয়গুলো জানতে চাই।

উত্তর :

*        সাফা মারওয়া নামক দু’টি পাহাড়ের মাঝে বিশেষ নিয়মে সাতটি চক্কর দেয়াকে সায়ী বলা হয়।

*        তওয়াফ ও তদানুষঙ্গিক কার্যাবলী সম্পন্ন করার পর সায়ী করার উদ্দেশে সাফা পাহাড় অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার পূর্বে হজরে আসওয়াদকে যথা নিয়মে চুমু দিবে। এটা মুস্তাহাব।

*        তওয়াফের পর বিলম্ব না করেই সায়ী করা সুন্নত।

*        সায়ী করার জন্য সাফা ফটক দিয়ে বের হওয়া মুস্তাহাব। এরপর সাফা পাহাড়ের নিকটবর্তী গিয়ে এ দুআটি পাঠ করা মুস্তাহাব : أبدأ بِمَا بَدَأَ الله بِهِ إِن الصَّفَا والمروة من شَعَائِر الله

*        সাফা পাহাড়ের এতটুকু উঁচুতে আরোহণ করা সুন্নত যেখান থেকে কাবা শরীফ দৃষ্টিগোচর হয়।

*        কাবা শরীফ দৃষ্টিগোচর হলে কাবার দিকে দৃষ্টি দিয়ে দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠিয়ে তিনবার শব্দ করে এ দুআটি পাঠ করা মুস্তাহাব: الحمد لله الله اكبر لا اله الا الله

*        এরপর নিম্নস্বরে দুরুদ শরীফ পাঠ করে নিজের জন্য এবং সকলের জন্য দুআ করবে। এটা দুআ কবুল হওয়ার স্থান।

*        সায়ীর নিয়ত করে নেয়া উত্তম।

*        এরপর দুআ কালাম পাঠ করতে করতে মারওয়ার দিকে অগ্রসর হবে। যথাসাধ্য মধ্যবর্তী জায়গা দিয়ে সায়ী করার চেষ্টা করবে। চলার গতি থাকবে স্বাভাবিক। মাঝখানে সবুজ দুটি স্তম্ভ চোখে পড়বে। এই স্তম্ভদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানটুকু পুরুষের জন্য কিছুটা দ্রুত গতিতে চলা সুন্নত। নারীরা এ স্থানেও স্বাভাবিক গতিতে চলবে। এ সময় এ দুআটি পাঠ করবে- رب اغفروارحم انت الاعز الاكرم

*        পুরুষের জন্য ভীড়ের কারণে দ্রুত চলা সম্ভব না হলে ভীড় কমার অপেক্ষা করবে। মধ্যবর্তী এ স্থানটুকু পার হওয়ার পর আবার স্বাভাবিক গতিতে চলতে চলতে মারওয়া পাহাড়ে পৌঁছে যাবে। মারওয়া পাহাড়ের সামান্য উঁচুতে আরোহণ করে কাবামুখী হয়ে পূর্বের ন্যায় হাত উঠিয়ে তিনবার এ দুআটি পাঠ করবে এবং অন্যান্য দুআ করবে- الحمد لله الله اكبر لا اله الا الله

*        পূর্বোক্ত নিয়মে সাফা মারওয়ার মাঝে সাতটি চক্কর দিবে। সপ্তম চক্করটি মারওয়ায় গিয়ে শেষ করবে।

*        মহিলাগণ ঋতুশ্রাব অবস্থায় সায়ী করতে পারেন। তবে পবিত্র হওয়ার পর সায়ী করা সুন্নত।

*        সায়ীর সপ্তম চক্কর শেষ হওয়ার পর মসজিদে হারামের ভিতরে এসে দুই রাকাত নফল নামায আদায় করা মুস্তাহাব।- আলমাউসুআতুল ফিকহিয়্যা ২৫/১১, আদদুররুল মুখতার ৩/৫১৩, রদদুল মুহতার ৩/৫১৩, ৫১৪, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৭, ২৩৬, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৫০২, আলমাবসূত ১/,৩১,৩২, হিদায়া ১/২৩৮।

প্রশ্ন : তওয়াফের প্রয়োজনীয় বিষয়াবলি জানতে আগ্রহী।

উত্তর :

*        তওয়াফ শুরু করার পূর্ব মুহূর্তে চাদরের ডান অংশকে ডান বগলের নিচ দিয়ে নিয়ে বাম কাঁধের উপর রেখে দিবে। এরূপ করাকে ইজতিবা বলে। সম্পূর্ণ তওয়াফে এরূপ অবস্থা ধরে রাখাতে হবে। ইজতিবা করা সুন্নত। তওয়াফ ব্যতীত অন্য কোনো সময় ইজতিবা করবে না। যে তওয়াফের পর সায়ী নেই সে তওয়াফেও ইজতিবা করবে না। অতঃপর কাবা শরীফের দিকে মুখ করে হজরে আসওয়াদকে ডান দিকে রেখে দাঁড়াবে।

*        এরপর তওয়াফের নিয়ত করবে। নিয়ত করার পর বাইতুল্লাহর দিকে মুখ থাকাবস্থায়ই ডান দিকে এতটুকু স্থান সরে দাঁড়াবে যাতে হজরে আসওয়াদ ঠিক বরাবর সামনে এসে যায়। এরপর নামাযের তাকবীরে তাহরীমার ন্যায় দুই হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠিয়ে হজরে আসওয়াদের দিকে মুখ করে নিম্নোক্ত দুআটি পাঠ করবে-

بسم الله الله اكبر لا اله الا الله ولله الحمد والصلاة والسلام على رسول الله اللهم ايمانا بك وتصديقابكتابك ووفاء بعهدك واتباعا لسنة نبيك محمد صلى الله عليه وسلم

*        এরপর হাত নামিয়ে ফেলবে। এরপর কাউকে কষ্ট না দিয়ে সম্ভব হলে হজরে আসওয়াদকে চুমু দিবে। চুমু দেয়া সুন্নত। তিনবার চুমু দেয়া মুস্তাহাব। চুমুতে শব্দ হবে না। প্রতিবার চুমু দেয়ার পর মাথা হজরে আসওয়াদের উপর রাখা ও মুস্তাহাব। ভিড়ের কারণে চুমু দেয়া সম্ভব না হলে হাত দ্বারা হজরে আসওয়াদ স্পর্শ করে হাতে চুমু দিবে। তাও সম্ভব না হলে কোনো লাঠি দ্বারা স্পর্শ করে তাতে চুমু খাবে। তাও সম্ভব না হলে দুই হাতের তালু দিয়ে হজরে আসওয়াদের দিকে ইশারা করে দুই হাতে চুমু খাবে। এ সময় নিম্নোক্ত দুআটি পাঠ করবে-

الله اكبر لا اله الا الله والحمد لله والصلاة على سيد المصطفى صلى الله عليه وسلم

উল্লেখ্য, আজকাল অনেকে হাজরে আসওয়াদ, মুলতাযাম, রুকনে ইয়ামানী, প্রভৃতি স্থানে সুগন্ধি মেখে এসে থাকেন। তাই এহরাম অবস্থায় যে তওয়াফ হয় তাতে সরাসরি এসব স্থান স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা উচিৎ। কারণ এহরাম অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার করা নিষেধ।

*        চুমু দেয়ার পর পা শক্ত রেখে একটু ডান দিকে ঘুরবে। এরপর কাবা শরীফকে বাম দিকে রেখে তওয়াফ শুরু করবে। তওয়াফের সময় কাবা শরীফের দিকে বুক, দৃষ্টি এবং মুখ ফিরাবে না। তওয়াফের সাত চক্করের মধ্য হতে প্রথম তিন চক্করে বীরের ন্যায় বুক ফুলিয়ে কাঁধ দুলিয়ে ঘন ঘন পা ফেলে কিছুটা দ্রুত গতিতে চলতে হবে। এরূপ করাকে রমল বলা হয়। রমল করা সুন্নত। তবে যে তওয়াফের পর সায়ী নেই সে তওয়াফে রমলও নেই। রমল, এজেতেবা শুধু পুরুষের জন্য মহিলাদের জন্য নয়।

*        তওয়াফ হাতীমের বাহির দিয়ে করা ওয়াজিব। ভীড় না থাকলে এবং কাউকে কষ্ট দেয়া না হলে পুরুষের জন্য যথা সম্ভব বাইতুল্লাহর কাছাকাছি দিয়ে তওয়াফ করা উত্তম।

*        প্রত্যেক চক্করে রুকনে ইয়ামানীতে (কাবা শরীফের দক্ষিণ পশ্চিম কোণ) পৌঁছে সম্ভব হলে দুই হাতে কিংবা শুধু ডান হাতে রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ করবে।

*        এরপর রুকনে ইয়ামানী থেকে হজরে আসওয়াদের কোণে যাওয়া পর্যন্ত নিম্নোক্ত দুআটি পাঠ করা মুস্তাহাব। প্রত্যেক চক্করেই এ স্থানে এ দুআটি পাঠ করবে- بنا آتنا فى الدنيا حسنة وفى الاخرة حسنة وقنا عذاب النار

*        এরপর হজরে আসওয়াদ বরাবর পৌঁছে গেলে এক তওয়াফের এক চক্কর পূর্ণ হয়ে যাবে। এরপর সম্ভব হলে بسم الله الله اكبر বলে আবার পূর্বের নিয়মে হজরে আসওয়াদে চুমু খাবে বা হাতে স্পর্শ করে বা ইশারা করে হাতে চুমু খাবে। প্রত্যেক চক্করের শুরুতেই এভাবে চুমু খাবে। তবে কান পর্যন্ত হাত উঠাবে না। এভাবে সাত চক্কর শেষ হওয়ার পর আবার হজরে আসওয়াদে পূর্বের নিয়মে চুমু খাবে। এটা হলো সপ্তম চুমু। এ চুমুর মাধ্যমে তওয়াফ শেষ হলো। এবার চাদরের ইজতিবা খুলে ডান কাঁধ ঢেকে নিবে।

*        তওয়াফ শেষ করার পর যদি ভীড় না হয় তাহলে হজরে আসওয়াদ ও কাবা ঘরের ফটকের মধ্যবর্তী স্থানকে আঁকড়ে ধরবে। বুক চেহারা দেয়ালের সাথে লাগাবে। উভয় হাত উপরে উঠিয়ে দেয়ালে স্থাপন করে খুব কাকুতি মিনতি সহকারে দুআ করবে। এ স্থানকে মুলতাযাম বলা হয়। এটা দুআ কবুলের স্থান। এ স্থানে এরূপ দুআ করা সুন্নত।

*        এরপর সম্ভব হলে কাবা শরীফের দরজা মুবারকের চৌকাঠ ধরে খুব দুআ করবে। সম্ভব হলে গেলাফ আঁকড়ে ধরে খুব কান্না কাটি করবে।

*        এরপর দুই রাকাত নামায পড়া ওয়াজিব। এ নামাযকে সালাতুত তওয়াফ বলা হয়। তেমনিভাবে নফল তওয়াফের পরও দু রাকাত নামাজ পড়া ওয়াজিব। এ নামায মাকামে ইবরাহীমের পেছনে পড়া মুস্তাহাব। মাকরূহ ওয়াক্ত না হলে তওয়াফ শেষে বিলম্ব না করে এ নামায পড়ে নেয়া সুন্নত। আর তখন নিষিদ্ধ বা মাকরূহ ওয়াক্ত হলে অন্য সময় পড়ে নিবে। এ নামাযের পর দুআ কবুল হয়ে থাকে। মাকামে ইবরাহীমের দিকে যাওয়ার সময় এ আয়াতাংশটুকু পাঠ করবে- واتخذوا من مقام ابراهيم مصلى

*        তওয়াফের দুই রাকাত নামায আদায় করার পর যমযমের পানি পান করবে। এবং দুআ করবে। এটাও দুআ কবুলের স্থান। যমযমের পানি কাবা শরীফের দিকে মুখ করে পান করা মুস্তাহাব। যমযমের পানি পান করার সময় এ দুআটি পাঠ করা মুস্তাহাব- اللهم انى اسئلك علما نافعا ورزقا واسعا وشفاء من كل داء

*        হজ্জে কিরান আদায়ের ক্ষেত্রে উমরার তওয়াফ, নফল তওয়াফ এবং তওয়াফে কুদুমের সময় তালবিয়া পাঠ করার অবকাশ রয়েছে। তেমনিভাবে হজ্জে ইফরাদের ক্ষেত্রে তওয়াফে কুদুম এবং নফল তওয়াফের সময় তালবিয়া পাঠ করা যাবে। তবে উঁচু আওয়াজে পাঠ করবে না। তবে এক্ষেত্রে হাদীসে বর্ণিত দুআগুলো পাঠ করা উত্তম। আর হজ্জের সায়ী যদি তওয়াফে যিয়ারতের পরে আদায় করা হয় কিংবা উমরার সায়ী হয় তাহলে এসায়ীতে তালবিয়া পাঠ করবে না। তবে যদি হজ্জের সায়ী তওয়াফে কুদুমের পর আদায় করা হয় তাহলে সে সায়ীতে তালবিয়া পাঠ করা উত্তম।- সূরা বাকারাহ ১২৫, সহীহ বুখারী হাদীস ১৬০১, সহীহ মুসলিম হাদীস ১২১৮,১২৩৪, ১২৬১, ১২৬২, সুনানে আবুদাউদ ১৮৮৪, ১৮৯২, সুনানে তিরমিযী ৮৬১, আলমুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন হাদীস ১৭৩৯, আলমাবসূত ১/২৩,২৫, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৫,২২৬, ২৩৬, ২৩৮, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৯৭, ফাতহুলকাদীর ২/৪৬৬, রসায়েলে ইবনে আবিদীন ৩৪৯, রদদুল মুহতার ৮/২৪৬, হিদায়া ১/২৩৮, ২৪০, মুআল্লিমুল হুজ্জাজ মাআল হামিশ ১০৪।

প্রশ্ন : উমরার ক্ষেত্রে করণীয় বিষয়গুলো জানতে চাই।

উত্তর : সাধ্য থাকলে জীবনে একবার উমরা করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। তিনটি কার্যক্রমের সমষ্টিকে উমরা বলা হয়। যথা,

১.       ইহরাম বাধা।

২.       তওয়াফ করা।

৩.      সায়ী করা। সায়ী করার পর মাথা মু-ন করে বা চুল ছোটো করে ইহরাম খুলতে হয়।- ফাতাওয়া হিন্দিয়া-১/২৩৭, সিফাতুল হজ ওয়াল উমরা ৪।

প্রশ্ন : বদলী হজের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো কি জানতে আগ্রহী।

উত্তর :

*        যদি কোনো ব্যক্তি হজ ফরয হওয়ার পর দারিদ্র, পঙ্গু, অন্ধ ও লেংড়া প্রভৃতি ব্যধি, যানবাহনে চড়তে অক্ষম হওয়ার মত বৃদ্ধ বয়স, অনিরাপদ যাতায়াত পথ কিংবা মাহরাম অনুপস্থিতির কারণে হজ পালন করতে না পারে তাহলে তার জন্য মৃত্যুর পূর্বে তার পক্ষ থেকে বদলী হজ করানোর ওয়াসিয়ত করে যাওয়া ওয়াজিব। ওয়াসিয়ত না করলে গুনাহ হবে।

*        মৃত ব্যক্তির পরিত্যাক্ত সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশের মাধ্যমে যদি বদলী হজ করানো সম্ভব হয় তাহলে উত্তরাধিকারীদের উপর ওয়াসিয়ত অনুযায়ী বদলী হজ করানো ওয়াজিব। আর এর চেয়ে বেশি অর্থের প্রয়োজন হলে বদলী হজ করানোর ব্যাপারটি উত্তরাধিকারীদের ইচ্ছার উপর ন্যাস্ত থাকবে।

*        মৃত ব্যক্তি ওয়াসিয়ত না করে গেলে যদি ওয়ারিশগণ তার পক্ষ থেকে নিজেদের অর্থ দিয়ে বদলী হজ করায় তবুও আশা করা যায় মৃত ব্যক্তির হজ আদায় হয়ে যাবে।

*        বদলী হজ এমন ব্যক্তি দ্বারা করানো উত্তম যিনি ১. ভাল মানুষ রূপে পরিচিত ২. হজের মাসায়েল সম্বন্ধে সম্মক অবগত ৩. এবং পূর্বে নিজের হজ আদায় করেছেন।

*        মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে নফল হজ বা নফল উমরা অন্যের দ্বারা করানো যায়। এমনকি জীবিত সক্ষম ব্যক্তির পক্ষ থেকেও নফল হজ বা উমরা অন্যের দ্বারা করানো যায়।

*        বদলী হজের ক্ষেত্রে হজ্জে ইফরাদ করবে। তবে অনুমতি হলে হজ্জে কেরান ও করার অবকাশ রয়েছে। কিন্তু কেরান হজ করলে কুরবানী হজকারীর অর্থ থেকে আদায় করতে হবে। তবে অনুমতি প্রাপ্ত হলে মূল মালিকের অর্থ থেকেও আদায় করা যাবে।

*        বদলী হজের ক্ষেত্রে ইহরাম বাধার সময় কার পক্ষ থেকে হজের ইহরাম বাধা হচ্ছে সেটা মুখে উচ্চারণ করে নেয়া উত্তম।

প্রশ্ন : বদলী হজের ক্ষেত্রে কয়টি শর্ত প্রযোজ্য?

উত্তর : ফিকহের কিতাবগুলোতে আলাদা শিরোনামে বদলী হজের বিশটি শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। শর্তগুলো নিম্নরূপ-

১.       ইহরাম বাধার সময় প্রতিনিধি হাজীর প্রধান হাজীর পক্ষ থেকে নিয়ত করা।

২.       প্রকৃত অর্থে প্রধান হাজীর যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ থাকা সত্ত্বেও নিজে হজ পালনে অক্ষম হওয়া।

৩.      অক্ষমতা আমৃত্যু স্থায়ী হওয়া।

৪.       হজ ফরয হওয়া।

৫.       বদলী হজ করানোর পূর্বে অক্ষমতা সৃষ্টি হওয়া।

৬.       হজ ব্যবস্থাপনার যাবতীয় ব্যয় বা অধিকাংশ ব্যয় প্রধান হাজীর অর্থ থেকে নির্বাহ হওয়া।

৭.       প্রধান হাজী যেভাবে নির্দেশনা দিবে সেভাবে প্রতিনিধি হাজীর জন্য মীকাত থেকে ইহরাম বাধা।

৮.      প্রধান হাজীর পক্ষ থেকে বদলী হজের ব্যাপারে নির্দেশনা আসা।

৯.       বদলী হজ পালনের বিনিময়ে কোনো রকম পারিশ্রমিক গ্রহণ না করা।

১০.     প্রতিনিধি হাজীর মাঝে হজ আদায়ের যাবতীয় শর্তাবলি বিদ্যমান থাকা।

১১.     প্রতিনিধি হাজীর জন্য যানবাহনে আরোহী হয়ে হজযাত্রা সম্পন্ন করা।

১২.     প্রধান হাজীর পরিত্যাক্ত সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশের মাধ্যমে যদি বদলী হজের ব্যয়নির্বাহ সম্ভব হয় তাহলে প্রধান হাজীর স্বদেশ থেকে হজযাত্রা আরম্ভ করা। নতুবা যেখান থেকে ব্যয়নির্বাহ সম্ভব সেখান থেকেই হজ সম্পন্ন করা।

১৩.     প্রধান হাজী যদি নির্দিষ্ট করে যায় তাহলে প্রতিনিধি হাজীর নিজে নিজেই বদলী হজ সম্পন্ন করা। অন্যের মাধ্যমে সম্পন্ন না করানো।

১৪.     প্রতিনিধি হাজীর এ বদলী হজকে নষ্ট করে না দেয়া।

১৫.     প্রধান হাজী যে হজ পালনের নির্দেশ দিবে সে হজই পালন করা। এক্ষেত্রে প্রধান হাজীর নির্দেশনার বিপরীত না করা।

১৬.     প্রতিনিধি হাজীর জন্য একটি হজের ইহরাম বাধা।

১৭.     যদি দুজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলী হজ পালনের ব্যাপারে প্রতিনিধি নিয়োগ হয় তাহলে এক ব্যক্তির পক্ষ থেকেই হজ পালন করা।

১৮.     প্রধান হাজীর মুসলিম এবং বুদ্ধি-বিবেচনাবোধ সম্পন্ন হওয়া।

১৯.     প্রতিনিধি হাজীর মুসলিম এবং বুদ্ধি-বিবেচনাবোধ সম্পন্ন হওয়া।

২০.     উকুফে আরাফা ছুটে না যাওয়া।- আলফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু ৩/৪৩৫, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৫৭, ২৫৮, রদদুল মুহতার ৪/১৫, ২০, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৫১৩।

প্রশ্ন ২৮৫ : হজের কার্যক্রমগুলো সংক্ষেপে জানতে চাই।

উত্তর : যখন ইহরাম বাধার ইচ্ছা পোষণ করবে তখন গোসল অথবা উযূ করে নিবে। এরপর নতুন অথবা পরিস্কার একটি লুঙ্গি এবং একটি চাদর পরিধান করবে। এবং সুগন্ধি ব্যবহার করবে। এরপর দু রাকাত নামায আদায় করবে। এরপর নিয়ত করবে, হে আল্লাহ আমি হজ করার ইচ্ছা পোষণ করছি। সুতরাং তুমি তা আমার জন্য সহজ করে দাও। এবং আমার পক্ষ থেকে সে হজকে কবুল করে নাও। এরপর তালবিয়া পাঠ করবে। তালবিয়া পাঠের মাধ্যমে সে মুহরিম হয়ে গেলো। সুতরাং মুহরিমের জন্য নিষিদ্ধ কাজগুলো থেকে তাকে বিরত থাকতে হবে। এরপর মসজিদে হারাম হয়ে মক্কায় প্রবেশ করবে। যখন বাইতুল্লাহ দৃষ্টিগোচর হবে তখন তাকবীর, তাহলীল পাঠ করবে। এরপর হজরে আসওয়াদকে সামনে রেখে দুআ করবে। এরপর সম্ভব হলে হজরে আসওয়াদকে চুম্বন দিবে। এরপর বাইতুল্লাহকে বাম দিকে রেখে সাতবার তওয়াফ করবে। তওয়াফের প্রথম তিন চক্করে রমল করবে। হজরে আসওয়াদের পাশ দিয়ে যতবার অতিক্রম করবে ততবারই চুমু দিবে। এটা হলো তওয়াফে কুদুম। এরপর মাকামে ইবরাহীমে এসে দুই রাকাত নামায আদায় করবে। এখানে সম্ভব না হলে মসজিদে হারামের যেখানে সম্ভব দুই রাকাত নামায আদায় করবে। এরপর সাফা মারওয়ায় গিয়ে সাতটি চক্করের মাধ্যমে সায়ী সম্পন্ন করবে। সাফা থেকে শুরু করে মারওয়ায় গিয়ে শেষ করবে। যখনই সাফা মারওয়ার উঁচুতে আরোহণ করবে কেবলামুখী হয়ে তাকবীর তাহলীল পাঠ করবে। এবং দুরূদ পাঠ করে আল্লাহ তাআলার কাছে নিজ প্রয়োজনে দুআ প্রার্থনা করবে। সাফা মারওয়ার মধ্যকার সবুজ দুটি স্তম্ভের মাঝখানের জায়গুটুকু একটু দ্রুত গতিতে অতিক্রম করবে। এরপর মুহরিম অবস্থায় মক্কায় অবস্থান করবে। এবং যখনই সুযোগ হবে বাইতুল্লাহর তওয়াফ করবে। এরপর ইয়াউমে তারবিয়ার পূর্বের দিন আগত হলে ইমাম সাহেব একটি খুতবা প্রদান করবেন। তাতে ইমাম সাহেব মিনায় গমন, আরাফায় অবস্থান এবং নামায আদায় এবং ইফাজা সম্বন্ধে ধারণা দিবেন। যখন মক্কায় তারবিয়া দিনের ফজর নামায আদায় করবে তখন মিনার দিকে গমন করবে। এবং সেখানে অবস্থান করবে। এরপর আরাফার দিন ফজর নামায পড়ে আরাফার ময়দানে গমন করবে। এবং সেখানে অবস্থান করবে। আরাফার দিন সূর্য ঢলে যাওয়ার পর ইমাম সাহেব ময়দানে সমাগত হাজ্জীদের নিয়ে জোহরের সময়ে যোহর এবং আসর এক সাথে আদায় করবে। এবং নামাযের পূর্বে দুটি খুৎবা প্রদান করবে। তাতে ইমাম সাহেব নামায আদায়, আরাফা এবং মুযদালিফায় অবস্থান, পাথর নিক্ষেপ, কুরবানী করা, মাথা মু-ানো এবং তওয়াফে যিয়ারত সম্বন্ধে ধারণা দিবেন। এরপর সবাই পাহাড়ের কাছাকাছি গিয়ে অবস্থান করবে। ইমাম সাহেবের জন্য উচিৎ হলো সে আরাফার ময়দানে তার যানবাহনের উপর অবস্থান করবে। সেখানে থেকে সে দুআ করবে এবং হাজ্জীদেরকে হজের বিধি বিধান শিখাবে। যখন সূর্যাস্ত হবে তখন ইমাম সাহেব এবং তার সাথে হাজ্জীগণ মুযদালিফার দিকে অগ্রসর হবে। মুযদালিফায় এসে ইমাম সাহেব ইশার সময়ে হাজীদের নিয়ে ইশা এবং মাগরিবের নামায এক সাথে আাদায় করবে। নহরের দিন ফজরের সময় হলে ইমাম সাহেব হাজীদের নিয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থায়ই মুযদালিফায় ফজর নামায আদায় করবে। এরপর ইমাম সাহেবের সাথে হাজীরা অবস্থান করবে। এবং সূর্যোদয়ের পূর্বেই মিনার দিকে অগ্রসর হবে। মিনায় গিয়ে বড়ো জামারায় সাতটি পাথর নিক্ষেপ করবে। এবং প্রত্যেকবার নিক্ষেপের সময় তাকবীর পাঠ করবে। এবং প্রথমবার নিক্ষেপের সময়ই তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে দিবে। এরপর পশু কুরবানী করবে। এরপর মাথা মু-ন বা চুল ছোটো করবে। এসব করার মাধ্যমেই সে হালাল হয়ে যাবে। তবে এক্ষেত্রে স্ত্রী সম্ভোগ তার জন্য হালাল হবে না। এরপর সেদিন মক্কায় এসে পড়বে। মক্কায় গিয়ে সে বাইতুল্লাহর তওয়াফ করবে। এ তওয়াফকে তওয়াফে যিয়ারত বলা হয়। এখন তার জন্য স্ত্রী সম্ভোগ হালাল হবে। এরপর সে মিনায় ফিরে আসবে। এবং সেখানে অবস্থান করবে। যখন ইয়াউমে নাহরের দ্বিতীয় দিন সূর্য ঢলে পড়বে তখন তিন জামারাতের প্রতিটিতে সাতটি করে মোট ২১টি পাথর নিক্ষেপ করবে। পরের দিন সূর্য ঢলে যাওয়ার পর পূর্বের ন্যায় তিন জামারাতে সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবে। এরপর সেদিন কিংবা তার পরের দিন মক্কায় ফিরে আসবে। এবং বাইতুল্লাহর সাতবার তওয়াফ করবে। এবং এতে কোনো রমল করবে না। এই তওয়াফকে তওয়াফে সদর বলা হয়। এটা হলো হজ্জে ইফরাদ।

যদি হজ পালনকারী ব্যক্তি হজ্জে কিরান করে তাহলে তাকে মিকাত থেকে হজ এবং উমরা উভয়টির ইহরাম বাধতে হবে। এরপর মক্কায় প্রবেশ করে উমরার তওয়াফ এবং সায়ী করবে। এরপর তওয়াফে কুদুম করবে। এরপর হজ্জে ইফরাদের ন্যায় বাকি কার্যক্রমগুলো আঞ্জাম দিবে। আর যদি হজ্জে তামাত্তু করে তবে প্রথমে উমরার ইহরাম বাধবে। এরপর তওয়াফ ও সায়ী করবে। এরপর মাথা মু-িয়ে উমরা থেকে হালাল হয়ে যাবে। এবং তওয়াফের সাথে সাথে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে দিবে। এরপর হালাল অবস্থায় মক্কায় অবস্থান করতে থাকবে। এরপর যখন তারবিয়ার দিন আসবে তখন মসজিদে হারাম থেকে হজের ইহরাম বাধবে। এরপর হজ্জে ইফরাদের ন্যায় বাকী কার্যক্রমগুলো সম্পন্ন করবে।

প্রশ্ন : জনৈক মহিলার হজ করার সামর্থ্য আছে। কিন্তু তার স্বামী তাকে অনুমতি দিচ্ছে না। এ মুহূর্তে কি সে তার স্বামীর অনুমতি ব্যতীত হজ আদায় করতে পারবে?

উত্তর : ফরয হজ আদায়ের জন্য স্বামীর অনুমতি নেয়া জরুরি নয়। সুতরাং প্রশ্নে বর্ণিত মহিলা স্বামীর অনুমতি ব্যতীতই অন্য কোনো মাহরামকে সঙ্গে নিয়ে হজ আদায় করতে পারবে।- ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪৭৫, আলবাহরুর রায়েক ২/৫৫২, ফাতাওয়া হাক্কানিয়া ৪/২২০।

প্রশ্ন : (ক) যে মুহরিম মাথা মুণ্ডিয়ে হালাল হয় নি সে অন্য মুহরিমের মাথা মুণ্ডিয়ে দিতে পারবে কি না? (খ) মাথা মুণ্ডন, তওয়াফে যিয়ারত এবং কুরবানীর মধ্যে ধারাবাহিকতা রক্ষা করার বিধান কি? কোনো ব্যক্তি যদি কুরবানীর পূর্বে মাথা মুণ্ডিয়ে ফেলে তাহলে কোনো সমস্যা হবে কি না?

উত্তর : (ক) এক মুহরিম মাথা মুণ্ডিয়ে হালাল না হয়ে অপর মুহরিমের মাথা মুণ্ডিয়ে দিতে পারবে। (খ) কুরবানী ও মাথা মুণ্ডনের মাঝে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা জরুরী। সুতরাং কুরবানীর পূর্বে মাথা মুণ্ডালে দম ওয়াজিব হবে। আর তওয়াফে যিয়ারত, কুরবানী ও মাথা মুণ্ডনের মাঝে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সুন্নত। ফলে কেউ যদি কুরবানী ও মাথা মুণ্ডানোর পূর্বে তওয়াফে যিয়ারত করে ফেলে তাহলে তা সুন্নত পরিপন্থী ও মাকরুহ হবে।-আলবাহরুর রায়িক ২/৬৩৪, রদ্দুল মুহতার ৩/৫৩৭, ফাতাওয়া রহীমিয়া ৬/৯৯, ১০৩, ফাতাওয়া হাক্কানিয়া ৪/২৬৭

প্রশ্ন : কেউ যদি এমন অসুস্থ হয়ে পড়ে যে, সে হজের রুকনসমূহ আদায় করার মতো ক্ষমতা রাখে না তাহলে সে অন্যের মাধ্যমে বদলি হজ করালে হজ সহীহ হবে কি না?

উত্তর : কেউ যদি অসুস্থতার কারণে হজ পালন করতে অক্ষম হয়ে যায় এবং আর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে সে অন্যের দ্বারা বদলি হজ করাতে পারবে। তবে এরপর যদি সুস্থ হয়ে যায় তাহলে তাকে পুনরায় ফরয হজ আদায় করতে হবে।- সহীহ মুসলিম; হাদীস ১৩৩৫, সুনানে নাসাঈ; হাদীস ২৬৩৪, আদদুররুল মুখতার ৪/১৪, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৫৭, ফাতাওয়া রহীমিয়া ৮/১১৭, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১৫/৪৫০, ইমদাদুল আহকাম ৩/১৯৮।

প্রশ্ন : হজ আদায়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভুলের কারণে যে দম দিতে হয় তার জন্য কোনো সময় বা স্থান নির্দিষ্ট আছে কি না? থাকলে তা কি?

উত্তর : হজ আদায়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে হাজী সাহেবদের উপর যে দম ওয়াজিব হয় তার জন্য কোনো সময় নির্দিষ্ট নেই, যে কোনো সময় তা আদায় করা যাবে। তবে এই দম দেওয়ার জন্য স্থান নির্দিষ্ট। তা হলো, হারামের সীমানা। সুতরাং হারামের মধ্যেই পশু জবাই করতে হবে। হারামের বাহিরে উক্ত পশু জবাই করা জায়েয নেই।- আলহিদায়া ১/২৮০, ৩০০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৬১, ফাতাওয়া হাক্কানিয়া ৪/২৭৫, ২৭৬।

প্রশ্ন : কোনো মহিলা যদি হায়েয, নেফাস বা জুনুবী অবস্থায় তাওয়াফে যিয়ারত করে তাহলে তার উপর দম ওয়াজিব হয়। কিন্তু দমটা কী দ্বারা আদায় করবে?

উত্তর : হায়েয, নেফাস বা জুনুবী অবস্থায় যদি কেউ তাওয়াফে যিয়ারত করে তাহলে তার জন্য উট বা গরু দ্বারা দম দেওয়া ওয়াজিব।- আদদুররুল মুখতার ৩/৫৮১, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৪৫, ইরশাদুস সারী; পৃষ্ঠা ৩৮১, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১৫/৪১২।

প্রশ্ন : আমি এ বছর হজের উদ্দেশ্যে আগামী ১৪ এপ্রিল ঢাকা ত্যাগ করব। মক্কা, মীনা, আরাফা, মুযদালিফা মিলিয়ে আমাদের প্রায় এক মাস অবস্থান করতে হবে। মুকীম হওয়ার কারণে উল্লিখিত স্থানসমূহে আমাদের তো পূরা নামায পড়তে হবে। আরাফাতে অনেকে মুকীম হওয়া সত্ত্বেও কসর পড়ে থাকেন, অনেকে যোহর-আছর একসাথে পড়ে থাকেন। আমরা আছরের ওয়াক্তে আছর পড়ে থাকি। এতে অনেকে আপত্তি করেন। আমি আলেম নই। তাই আমার কথায় তারা আশ্বস্ত হতে পারেন না। যদি আমার আমল মাসআলা মোতাবেক হয় অনুগ্রহ পূর্বক অবগত করবেন। ভুল হলে সঠিক মাসআলা জানালে উপকৃত হব।

উত্তর : আরাফার ময়দানসহ মীনা, মুযদালিফা কোথাও মুকীমের জন্য কসর পড়া জায়েয নেই। আর সেখানে যোহর ও আছরের নামায একসাথে পড়ার জন্য উলামায়ে আহনাফের নিকট কিছু শর্ত রয়েছে,

১. প্রথমে যোহর তারপর আছর পড়া।

২. হজের ইহরাম অবস্থায় থাকা।

৩. আরাফার দিন আরাফার ময়দানে থাকা।

৪. প্রধান ইমাম বা তার কোনো খলীফার পিছনে নামায পড়া।

উক্ত শর্তসমূহের মধ্য থেকে যদি কোনো একটি না পাওয়া যায় তাহলে যোহর নামাযের সময় যোহর এবং আছর নামাযকে একসাথে পড়া জায়েয নেই। সুতরাং যারা প্রধান ইমাম বা তার খলীফা ব্যতীত অন্য কোনো ইমামের পিছনে বা একাকী তাবুর মাঝে নামায পড়তে চায় তারা যোহরের নামায যোহরের ওয়াক্তে আর আছরের নামায আছরের ওয়াক্তে পড়বে। দুই ওয়াক্তের নামাযকে একত্রে পড়া জায়েয নেই।- ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৮, ইরশাদুস সারী; পৃষ্ঠা ২১৬, ২১৭, ২১৮, আলহিদায়া ১/২৪৫, ফাতাওয়া হাক্কানিয়া ৪/২৩৪।

প্রশ্ন : কোনো ব্যক্তি যদি এ পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় যার উপর হজ ফরয অতঃপর হজের সময় আসার পূর্বেই সে সম্পদ নষ্ট হয়ে যায় তবে কি তার হজ কাযা করা ওয়াজিব?

উত্তর : যদি কারো নিকট হজের সময়ের পূর্বে এ পরিমাণ সম্পদ জমা হয় যার উপর হজ ফরয এবং ঐ সম্পদ হজের সময় আসার পূর্বেই নষ্ট বা ধ্বংস হয়ে যায় তবে তার উপর হজ ফরয নয়।- আলবাহরুর রায়েক ২/৫৫০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১৯, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১৫/৩৫৪।

প্রশ্ন : স্ত্রীর উপর হজ ফরয থাকাবস্থায় তার স্বামী যদি নিজের টাকা খরচ করে স্ত্রীকে হজ করায় তবে স্ত্রীর ফরয হজ আদায় হবে কি না?

উত্তর : যদি স্বামী তার স্ত্রীকে নিজের সম্পদ দ্বারা হজ করায় আর স্ত্রী নিজের ফরয হজ আদায়ের নিয়ত করে তবে তার ফরয হজ আদায় হয়ে যাবে।- সূরা আলে ইমরান; আয়াত ৯৭, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১৭, আলবাহরুর রায়েক ২/৫৪৮, রদ্দুল মুহতার ৪/২৬, ২৯, আদদুররুল মুখতার ৪/২৬, বাদায়িউস সানায়ে’ ২/৪৫৮, আলফিকহুল হানাফী ফী সাওবিহিল জাদীদ ১/৪৫২, ইমদাদুল আহকাম ২/১৫৯, খাইরুল ফাতাওয়া ৪/২১১, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১৫/৩৫৮।

প্রশ্ন : জনৈক ব্যক্তি এক লাখ টাকা ব্যয় করে ওমরা করে এসেছে। এখন কি তার উপর হজ ফরয? অনেকে বলেন, কা’বা শরীফ দেখলেই হজ ফরয হয়ে যায়। কথাটা কতটুকু শরীয়ত সম্মত?

উত্তর : যদি উক্ত ব্যক্তি শাওয়াল মাস শুরু হওয়ার আগেই ওমরা করে ফিরে আসে তাহলে তার উপর হজ ফরয হবে না। যদি মক্কা থেকে শাওয়াল মাস শুরু হওয়ার পর ফিরে আসে এবং ইতিপূর্বে সে হজ করেনি এবং তার কাছে হজের খরচ বহন করার মতো টাকা থাকে তাহলে তার উপর হজ করা ফরয। সরকারী বাধ্যবাধকতার কারণে মক্কায় থাকতে না পারলে বদলি হজ করাবে। পরবর্তীতে সময় ও সামর্থ্য হলে পুনরায় হজ করবে। উল্লেখ্য, কা’বা ঘর দেখলে হজ করা ফরয হয়ে যায় ধারণাটি সঠিক নয়। হজ প্রত্যেক বালেগ সামর্থবান মুসলমানের উপর ফরয।- সূরা আলে ইমরান; আয়াত ৯৭, রদ্দুল মুহতার ৩/৪৫৮, ৪৫৯, আলবাহরুর রায়েক ২/৫৪৫, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৫১৯।

প্রশ্ন : কোনো ব্যক্তি যদি কারো বদলি হজ আদায় করে। পরবর্তীতে যদি উক্ত ব্যক্তি হজ করার উপর সামর্থবান হয়ে যায়। তাহলে এখন কি তার জন্য পুনরায় হজ করতে হবে না কি পূর্বের হজই তার জন্য যথেষ্ট হবে?

উত্তর : হ্যাঁ, এখন তাকে নিজের ফরয হজ আদায় করতে হবে। কারণ অন্যের বদলি হজ করার দ্বারা নিজের ফরয হজ আদায় হয় না।- ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৫৭, রদ্দুল মুহতার ২/৬০২, আলহিদায়া ১/২৯৭, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১৫/৪৫৮।