Daily Dua

 

নামায আদায়ান্তে পঠিতব্য মাসনূন যিকর ও দুআসমূহ

মুফতী ইবরাহীম হাসান

 

প্রত্যেক (ফরয) নামাযের পর পাঠ করবে

১.   اَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِيْ لاَ إِلهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ

অর্থ : আমি ঐ সত্তা সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা করছি যিনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। আমি তাঁর কাছেই তওবা তথা পাপবোধের অনুশোচনা জ্ঞাপন করি।

হাদীসের ভাষ্য : যায়েদ ইবনে বূলা রাযি. সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

যে ব্যক্তি প্রত্যেক নামাযের পর এ দু‘আটি পাঠ করবে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। যদিও সে জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন করে। (মু’জামে তাবারানী আউসাত; হা.নং ৭৭৩৮, সুনানে তিরমিযী; হা.নং ৩৫৭৭)

২.   আয়াতগুলো পাঠ করবে এবং দু‘আ করবে

اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ. لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انْفِصَامَ لَهَا وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ.

অর্থ : আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রা অথবা নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব তাঁরই। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট সুপারিশ করবে? তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে সে সম্বন্ধে তিনি অবগত। যা তিনি ইচ্ছা করেন তদ্ব্যতীত তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না। তাঁর ‘কুরসী’ আকাশ ও পৃথিবীময় পরিব্যাপ্ত; এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। আর তিনি মহান, শ্রেষ্ঠ। দীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। সত্য পথ ভ্রান্ত পথ হতে সুস্পষ্ট হয়েছে। যে তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে সে এমন এক মজবুত হাতল ধারণ করবে যা কখনো ভাঙবে না। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, প্রজ্ঞাময়। (‘সূরা বাকারা’- ২৫৫, ২৫৬)

হাদীসের ভাষ্য : (এক) আসমা বিনতে যায়েদ রাযি. সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

নি¤েœাক্ত আয়াত (‘সূরা বাকারা’র ১৬৩ এবং ২৫৫ নাম্বার আয়াত) দুটিতে ইসমে আযম তথা আল্লাহ তা‘আলার মহৎ নাম নিহিত রয়েছে।

(وَإِلَهُكُمْ إِلهٌ وَّاحِدٌ لاَ إِلهَ إِلاَّ هُوَ الرَّحْمنُ الرَّحِيْمُ) وفاتحة آل عمران (الم اَللهُ لاَ إِلهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ)

(সুনানে তিরমিযী; হা.নং ৩৪৭৮)

(দুই) আবু উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

আল্লাহ তা‘আলার যে মহান নাম নিয়ে দু‘আ করলে দু‘আ কবুল হয় তা তিনটি সূরায় নিহিত রয়েছে। (১) ‘সূরা বাকারা’, (২) ‘সূরা আলে ইমরান’, (৩) ‘সূরা ত্বাহা’। (সুনানে ইবনে মাজাহ; হা.নং ৩৮৪৬)

(তিন) আবু উমামা রাযি. থেকে অন্য একটি সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে জান্নাতে প্রবেশের ক্ষেত্রে তার জন্য মৃত্যু ব্যতীত আর কোনো প্রতিবন্ধক থাকবে না। (আহমদ আননাসায়ী, আ’মালুল ইয়াউমি ওয়াললাইলাহ; হা.নং ১০০, সুনানে নাসাঈ কুবরা; হা.নং ৯৯২৮, মুহাম্মদ বিন রিযক বিন তারহুনী, আল-আহাদীসুস সাবিতা ফী ফাযায়িলি সুওয়ার ওয়া আয়াতিল কুরআন ১/১৬)

(চার) হাসান ইবনে আলী রাযি. সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

যে ব্যক্তি ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে সে অন্য নামাযের আগ পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলার দায়িত্বে চলে যাবে। (মু’জামে তাবারানী কাবীর; হা.নং ২৭৩৩, মাজমাউয যাওয়ায়িদ; হা.নং ২৮৯২)

৩.   বাক্যটি পাঠ করে দু‘আ করবে

اَللّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ بِأَنِّيْ أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللهُ لاَ إِلهَ إِلاَّ أَنْتَ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِيْ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُوْلَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَه كُفُوًا أَحَدٌ

অর্থ : আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি একথা বলে যে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি আল্লাহ, আপনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই। আপনি এমন এক-অদ্বিতীয় ও অমুখাপেক্ষী সত্তা যিনি কউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয় নি এবং তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।

হাদীসের ভাষ্য : বুরাইদা আলআসলামী রাযি. সূত্রে বর্ণিত,

একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন, জনৈক ব্যক্তি এ দু‘আটি পাঠ করে দু‘আ করছে। তখন তিনি বললেন, ঐ সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ সমর্পিত, এ ব্যক্তি আল্লাহ ত‘আলার কাছে প্রার্থনা করেছে আল্লাহ তা‘আলার সুমহান নামের মাধ্যমে। এ নামের মাধ্যমে যখন প্রার্থনা করা হয় তখন আল্লাহ তা‘আলা সে প্রার্থনা কবুল করেন এবং এ নাম নিয়ে যখন আল্লাহ তা‘আলার কাছে কোনো কিছু কামনা করা হয় তখন আল্লাহ তা‘আলা তা দান করেন। (সুনানে তিরমিযী; হা.নং ৩৪৭৫)

৪.   তিনবার ইস্তিগফার পাঠ করে দু‘আটি পড়বে

اَللّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالْإِكْرَامِ

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি শান্তি বিধায়ক। এবং শান্তি সমৃদ্ধি আপনার পক্ষ থেকেই আসে। হে মহত্ত্ব ও মর্যাদার আধার! আপনি অতিশয় মহিমান্বিত।

হাদীসের ভাষ্য : সাওবান রাযি. সূত্রে বর্ণিত,

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামায শেষ করতেন তখন তিনবার ইস্তেগফার পাঠ করতেন। এরপর উপরোক্ত দু‘আটি পাঠ করতেন। বর্ণনাকারী আলওয়ালীদ রহ. বলেন, আমি আওযায়ী রহ. কে জিজ্ঞেস করলাম ইস্তিগফার কীভাবে পড়ব? তিনি বললেন, বলবে, أستغفر الله أستغفر الله (সহীহ মুসলিম; হা.নং ৫৯১)

৫.

لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَه لاَشَرِيْكَ لَه لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ اَللّهُمَّ لاَمَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَمُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَيَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ

অর্থ : একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই। তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তাবৎ রাজত্ব তাঁর অধীন। যাবতীয় স্তুতি প্রশংসা তাঁর জন্য। তিনি সকল প্রকার বস্তু-বিষয়ের উপর শক্তিমান। হে আল্লাহ! আপনি দান করতে চাইলে তার কোনো অন্তরায় বা প্রতিরোধকারী নেই। আপনি কোনো কিছু না দিতে না চাইলে তা দেওয়ার ক্ষমতা কারো নেই। আপনার পক্ষ থেকে প্রদত্ত মর্যাদা-ঐশ্বর্য মর্যাদা ও ঐশ্বর্যের অধিকারী ব্যক্তিকে কোনো রূপ উপকার করতে পারবে না।

হাদীসের ভাষ্য : মুগীরা ইবনে শু’বা রাযি. সূত্রে বর্ণিত,

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ফরয নামাযের পর উপরোক্ত দু‘আটি পাঠ করতেন। (সহীহ বুখারী; হা.নং ৮৪৪)

৬.

اللَّهُمَّ أَعِنِّى عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার স্মরণ, আপনার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন এবং আপনার সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন ইবাদত করার ব্যাপারে আমাকে সহায়তা করুন।

হাদীসের ভাষ্য : আবু আব্দুল্লাহ সুনাবিহী রাযি. সূত্রে বর্ণিত,

একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়ায ইবনে জাবাল রাযি.-এর হাত ধরলেন এবং বললেন, হে মুয়ায! আল্লাহর শপথ, আমি তোমাকে ভালোবাসি। আল্লাহর শপথ, আমি তোমাকে ভালোবাসি। এরপর বললেন, হে মুয়ায! আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি, প্রত্যেক নামাযের পর এ দু‘আটি পরিত্যাগ করবে না। (সুনানে আবু দাউদ; হা.নং ১৫২৪)

৭.

اَللّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَرُدَّ إِلى أَرْذَلِ الْعُمُرِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبَرِ

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার সমীপে কাপুরুষতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এবং আপনার সমীপে নিকৃষ্ট বয়সে উপনীত হওয়া থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এবং আমি আপনার সমীপে পার্থিব গোলযোগ ও সম্মোহন থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এবং আমি আপনার সমীপে কবর জগতের শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

হাদীসের ভাষ্য : সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি. সূত্রে বর্ণিত,

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের পর এ দু‘আটির মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। (সহীহ বুখারী; হা.নং ২৮২২)

৮.

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَلاَ نَعْبُدُ إِلاَّ إِيَّاهُ لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ

অর্থ : একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই। তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তাবৎ রাজত্ব তাঁর অধীন। যাবতীয় স্তুতি প্রশংসা তাঁর জন্য। তিনি সকল প্রকার বস্তু-বিষয়ের উপর শক্তিমান। সকল প্রকার শক্তি ও ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আল্লাহ ব্যতিরেকে কোনো ইলাহ নেই। আমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করি। আশীষ-প্রাচুর্য তাঁরই, শ্রেষ্ঠত্ব এবং মহত্ত্ব তাঁরই। সুন্দর প্রশংসা তাঁরই। তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আমরা আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে ইবাদত করি যদিও অবিশ্বাসীরা অপছন্দ করে।

হাদীসের ভাষ্য : আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাযি. সূত্রে বর্ণিত,

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক নামাযের পর উপরোক্ত দু‘আটি দ্বারা তাহলীল (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ) পাঠ করতেন। (সহীহ মুসলিম; হা.নং ১৩৭১)

৯.

(سورة الاخلاص) بسم الله الرحمن الرحيم قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ. اللَّهُ الصَّمَدُ. لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ. وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ.

অর্থ : বল, তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয় নি এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।

(سورة الفلق) بسم الله الرحمن الرحيم قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ. مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ. وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ. وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ. وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ.

অর্থ : বল, আমি শরণ নিচ্ছি ঊষার স্রষ্টার তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে, রাত্রির অন্ধকারের অনিষ্ট হতে যখন তা গভীর হয়, সমস্ত নারীদের অনিষ্ট হতে যারা গ্রন্থিতে ফুৎকার দেয় এবং হিংসুকের অনিষ্ট হতে যখন সে হিংসা করে।

(سورة الناس) بسم الله الرحمن الرحيم قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ. مَلِكِ النَّاسِ. إِلَهِ النَّاسِ. مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ. الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ. مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ.

অর্থ : বল, আমি শরণ নিচ্ছি মানুষের প্রতিপালকের, মানুষের অধিপতির, মানুষের ইলাহের, আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে জিনের মধ্য হতে এবং মানুষের মধ্য হতে।

হাদীসের ভাষ্য : (এক) খুবাইব রাযি. বলেন,

একদা আমরা প্রকট অন্ধকারাচ্ছন্ন বৃষ্টি ভেজা রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সন্ধানে বের হলাম, এ উদ্দেশে যে, তিনি আমাদের নিয়ে নামায পড়বেন। ইত্যবসরে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পেয়ে গেলাম। তিনি আমাকে বললেন, বলো। আমি কিছুই বললাম না। এরপর আবার বললেন, বলো। আমি এবারও কিছু বললাম না। এরপর আবার বললেন, বলো। এবার আমি বললাম, আমি কী বলব? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বলো, قل هو الله أحد (সূরা ইখলাস) এবং মুআউওয়াযাতাইন (সূরা ফালাক এবং সূরা নাস)। এ সূরাগুলো সকাল সন্ধ্যা তিনবার পাঠ করবে। সব কিছু থেকে এগুলো তোমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। (সুনানে তিরমিযী; হা.নং ৩৫৭৫)

(দুই) উকবা বিন আমের রাযি. বলেন,

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রত্যেক নামাযের পর মুআউয়াজাত তথা সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন। (সুনানে আবু দাউদ; হা.নং ১৫২৫)

১০.  নামাযের পর এবং অন্যান্য দু‘আর সময় পাঠ করে দু‘আ করবে

لاَ إِلهَ إِلاَّ أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّيْ كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِيْنَ

অর্থ : তুমি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই; তুমি পবিত্র, মহান! আমি তো সীমালঙ্ঘনকারী।

হাদীসের ভাষ্য : সা’দ রাযি. সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

ইউনুস আ. মাছের পেটে থাকাবস্থায় যে দু‘আটি পাঠ করেছিলেন তা হলো উপরোক্ত দু‘আটি। কোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি এ আয়াতটি পাঠ করে দু‘আ করে তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তার সে দু‘আ অবশ্যই কবুল করবেন। (সুনানে তিরমিযী; হা.নং ৩৫০৫)

১১.  اَللّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَرِزْقًا طَيِّبًا وَعَمَلاً مُتَقَبَّلاً

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে উপকারী জ্ঞান, পবিত্র-উৎকৃষ্ট আহার এবং গ্রহণযোগ্য পূণ্যকর্ম প্রার্থনা করছি।

হাদীসের ভাষ্য : উম্মে সালামা রাযি. সূত্রে বর্ণিত,

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফজর নামায পড়ে সালাম ফিরাতেন তখন উপরোক্ত দু‘আটি পাঠ করতেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ; হা.নং ৯২৫)

১২.  যথাক্রমে ৩৩ বার, ৩৩ বার, ৩৩ বার এবং একবার পাঠ করবে

سُبْحَانَ اللهِ.

الحَمْدُ للهِ.

اللهُ أَكْبَرُ.

لاَ إلهَ إلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَريكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ، وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلى كُلِّ شَيءٍ قَديرٌ.

অর্থ : আমি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি। যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য। আল্লাহ মহান। একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই। তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তাবৎ রাজত্ব তাঁর অধীন। যাবতীয় স্তুতি প্রশংসা তাঁর জন্য। তিনি সকল প্রকার বস্তু-বিষয়ের উপর শক্তিমান।

হাদীসের ভাষ্য : (এক) আবু হুরায়রা রাযি. সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

যে ব্যক্তি প্রত্যেক নামাযের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদু লিল্লাহ এবং ৩৩ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করবে এবং একবার لاَ إلهَ إلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَريكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ، وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلى كُلِّ شَيءٍ قَديرٌ পাঠ করবে তার যাবতীয় গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে যদিও তা সমুদ্রের ভাসমান ফেনা সমতুল্য হয়। (সহীহ মুসলিম; হা.নং ১৩৮০)

(দুই) আব্দুর রহমান ইবনে আবী লাইলা রাযি. সূত্রে বর্ণিত,

একদা আলী রাযি. ফাতেমা রাযি.-এর কাছে এসে অনুযোগের স্বরে বললেন, বালতি টানার ফলে আমার বুকে ব্যথা করছে। তখন ফাতেমা রাযি.ও অনুযোগ করে বললেন, আটার চাকি ঘুরিয়ে আমার হাত ব্যথা হয়ে গেছে। তখন আলী রাযি. বললেন, তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যাও। তাঁর কাছে যুদ্ধবন্দি এসেছে। হয়ত বা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার সেবার জন্য একটি দাস দিবেন। ফাতেমা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলেন। এরপর সালাম বিনিময় করে আবার আলী রাযি.-এর কাছে ফিরে আসলেন। আলী রাযি. জিজ্ঞেস করলেন, কী সংবাদ? ফাতেমা রাযি. বললেন, আমি ভয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথা বলতে সক্ষম হলাম না। এরপর আলী রাযি. এবং ফাতেমা রাযি. দুজনেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কী জন্য এসেছ? নিশ্চয় কোনো প্রয়োজনে এসেছ। আলী রাযি. বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহর রাসূল! প্রয়োজনেই এসেছি। পানির বালতি টেনে আমার বুকে ব্যথা হয়েছে বলে ফাতেমা রাযি.-এর কাছে অনুযোগ করেছিলাম। আর চাকি ঘুরাতে ঘুরাতে তার হাত ব্যথা হয়ে গিয়েছিল বলে সে আমার কাছে অনুযোগ করেছিল। তাই আমরা আপনার কাছে এসেছিলাম যাতে আপনার কাছে আগত যুদ্ধবন্দিদের মধ্য থেকে কাউকে আমাদের সেবার জন্য দেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না, কা’বার রবের শপথ! আমি যুদ্ধবন্দিদের বিক্রি করব এবং তার মূল্য আসহাবে সুফফার জন্য ব্যয় করব ক্ষুধার যন্ত্রণায় যাদের যকৃতগুলো গুটিয়ে গেছে। এতদিন আমি তাদের খাবারের কোনো ব্যবস্থা করতে পারছিলাম না। আলী রাযি. বলেন, এরপর বাড়িতে এসে আমরা আমাদের বিছানায় শুয়ে পড়লাম। ইত্যবসরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তাঁরা তাঁদের সাদা পশমি গালিচায় শুয়ে ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ পশমি গালিচাটি ও পরিপূর্ণ একটি বালিশ এবং একটি চামড়ার তৈরি পানির পাত্র ফতেমা রাযি.কে বিবাহের সময় উপঢৌকন হিসেবে প্রদান করেছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আলী রাযি. এবং ফাতেমা রাযি.-কে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তখন তারা মনে ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলেন এবং খুব মর্মাহত হয়েছিলেন। যখন আলী রাযি. এবং ফাতেমা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের ব্যাপারটি উপলব্ধি করলেন, বিছানা থেকে উঠে তাঁরা দাঁড়িয়ে গেলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে বললেন, তোমরা তোমাদের জায়গায় অবস্থান করো। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশমি গালিচার এক পাশে এসে বসলেন। এরপর বললেন, তোমরা আমার কাছে গিয়েছিলে যাতে আমি তোমাদের সেবা করার জন্য একটি গোলাম দেই। এখন আমি তোমাদেরকে এমন একটি বিষয় সম্বন্ধে অবগত করছি যা তোমাদের জন্য গোলাম থেকেও উত্তম এবং কল্যাণকর। তোমরা প্রত্যেক নামাযের পর তেত্রিশবার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তেত্রিশবার তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ) এবং চৌত্রিশবার তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠ করবে। আর যখন রাত্র বেলা বিছানায় ঘুমাতে যাবে তখন একশত বার করে পাঠ করবে। আলী রাযি. বলেন আমি জীবনে এ আমলগুলো পরিত্যাগ করেছি কী না আমার জানা নেই। আব্দুল্লাহ ইবনুল কাওয়া রাযি. আলী রাযি. কে জিজ্ঞেস করলেন, সিফ্ফীন যুদ্ধের রাত্রগুলোতেও আপনি এ দু‘আগুলো পরিত্যাগ করেননি? তখন আলী রাযি. বললেন, সিফ্ফীন যুদ্ধের রাত্রগুলোতেও আমি এ দু‘আগুলো পরিত্যাগ করিনি। (সহীহ বুখারী; হা.নং ৫৩৬২, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ; হা.নং ২৯৮৭৩)

১৩.  বাক্যটি পাঠ করে প্রার্থনা করবে

أَعُوذُ بِالله مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَأَعُوذُ بِالله مِنْ عَذَابِ النَّارِ، وَأَعُوذُ بِالله مِنَ الْفِتَنِ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ، وَأَعُوذُ بِالله مِنَ الأَعْوَرِ الْكَذَّابِ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি কবর জগতের শাস্তি হতে তোমার কাছে আশ্রয় কামনা করছি। আমি জাহান্নামের শাস্তি হতে তোমার কাছে আশ্রয় কামনা করছি। আমি জীবন এবং মৃত্যুর গোলযোগ ও প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে তোমার কাছে আশ্রয় কামনা করছি। আমি অন্ধ দাজ্জাল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় কামনা করছি।

হাদীসের ভাষ্য : আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. সূত্রে বর্ণিত,

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের পর দু‘আটি পাঠ করে উপরোক্ত চারটি বিষয় থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। (সুনানে নাসায়ী; হা.নং ২০৬০, মুসনাদে আব্দ ইবনে হুমাইদ; হা.নং ৭০৭, আহমদ আলবুসিরী, ইতহাফুল খিয়ারাতিল মাহারাহ; হা.নং ১৩৭৩)

১৪.

سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُوْنَ وَسَلاَمٌ عَلَى الْمُرْسَلِيْنَ وَالْحَمْدُ لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ

অর্থ : তারা যা আরোপ করে তা হতে পবিত্র ও মহান তোমার প্রতিপালক যিনি সকল ক্ষমতার অধিকারী। শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলদের উপর। আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই প্রাপ্য।

হাদীসের ভাষ্য : আবু সাঈদ খুদরী রাযি. সূত্রে বর্ণিত,

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক নামাযের পর দু‘আটি পাঠ করতেন। (সুনানে তিরমিযী; হা.নং ২৯৯)

১৫.  একশত বার পাঠ করবে

اللهم اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আমার তওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি তওবা কবুলকারী এবং ক্ষমাশীল।

হাদীসের ভাষ্য : আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. সূত্রে বর্ণিত,

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের পর দু‘আটি একশত বার পাঠ করতেন। (মুসনাদে আহমদ; হা.নং ২৩১৯৮)

১৬.  পাঠ করে দু‘আ করবে

اللهمَّ أَصْلِحْ لِي دِينِي الَّذِي جَعَلْتَهُ لِي عِصْمَةَ أَمْرِي، وَأَصْلِحْ لِي دُنْيَايَ الَّتِي جَعَلْتَ فِيهَا مَعَاشِي، اللهمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِعَفْوِكَ مِنْ نِقْمَتِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ، اللهمُّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدّ ِمِنْكَ الْجَدُّ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমার দীন তথা জীবন ব্যবস্থাকে সংশোধন করে দিন যে দীনকে আপনি আমার কার্যক্রমের রক্ষাকবচ বানিয়েছেন। এবং আমার পার্থিব জীবন ধারাকে সংশোধন করে দিন যে জীবনের মাঝে আপনি আমার জীবন উপকরণ সৃষ্টি করেছেন। হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টির শরণ গ্রহণ করছি আপনার অসন্তুষ্টি থেকে। আপনার ক্ষমার শরণ গ্রহণ করছি আপনার শাস্তি থেকে। এবং আমি আপনার শরণ গ্রহণ করছি আপনার ক্রোধ থেকে। হে আল্লাহ! আপনি দান করতে চাইলে তার কোনো অন্তরায় বা প্রতিরোধকারী নেই। আপনি কোনো কিছু দিতে না চাইলে তা দেওয়ার ক্ষমতা কারো নেই। আপনার পক্ষ থেকে প্রদত্ত মর্যাদা-ঐশ্বর্য্য মর্যাদা ও ঐশ্বর্যের অধিকারী ব্যক্তিকে কোনো রূপ উপকার করতে পারবে না।

হাদীসের ভাষ্য : আবু মারওয়ান রাযি. সূত্রে বর্ণিত,

কা’ব রাযি. বলেন, ঐ সত্তার শপথ যিনি মুসা আ.-এর জন্য সমুদ্রকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন, আমরা তাওরাত গ্রন্থে দেখতে পেয়েছি, দাউদ আ. নামায শেষে এসব বাক্য বলে দু‘আ করতেন। তেমনিভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এ বাক্যগুলো পাঠ করে দু‘আ করতেন। (সুনানে নাসায়ী; হা.নং ১৩৪৫, সহীহ ইবনে হিব্বান; হা.নং ২০২৬)

১৭.  اَللّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ وَعَذَابِ الْقَبَرِ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কুফর, দারিদ্র এবং কবর জগতের শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

হাদীসের ভাষ্য : আবু বাকরাহ রাযি. সূত্রে বর্ণিত,

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের পর এ দু‘আটি পাঠ করতেন। (সুনানে নাসায়ী; হা.নং ১৩৪৭, সহীহ ইবনে হিব্বান; হা.নং ১০২৮)

১৮.

اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَىْءٍ أَنَا شَهِيدٌ أَنَّكَ أَنْتَ الرَّبُّ وَحْدَكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَىْءٍ أَنَا شَهِيدٌ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَىْءٍ أَنَا شَهِيدٌ أَنَّ الْعِبَادَ كُلَّهُمْ إِخْوَةٌ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَىْءٍ اجْعَلْنِى مُخْلِصًا لَكَ وَأَهْلِى فِى كُلِّ سَاعَةٍ فِى الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ اسْمَعْ وَاسْتَجِبِ اللَّهُ أَكْبَرُ الأَكْبَرُ اللَّهُمَّ نُورَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ اللَّهُ أَكْبَرُ الأَكْبَرُ حَسْبِىَ اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ اللَّهُ الأَكْبَرُ اللَّهُ الأَكْبَرُ

অর্থ : হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক এবং বস্তুনিচয়ের প্রতিপালক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনিই একমাত্র প্রতিপালক। আপনার কোনো অংশীদার নেই। হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক এবং বস্তুনিচয়ের প্রতিপালক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ আপনার বান্দা এবং আপনার রাসূল। হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক এবং বস্তুনিচয়ের প্রতিপালক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, সকল বান্দা পরস্পর ভাই ভাই। হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক এবং বস্তুনিচয়ের প্রতিপালক! আপনি আমাকে প্রতি মুহূর্তে, ইহকাল এবং পরকালে আপনার এবং আমার পরিবারের একনিষ্ঠ করে দিন। হে মহত্ত্ব ও মর্যাদার আধার! শোনো এবং আমার প্রার্থনা কবুল করো। আল্লাহ মহান, অতিশয় মহান। আল্লাহ আকাশ পৃথিবীর জ্যোতির্ময়কারী। আল্লাহ মহান, অতিশয় মহান। আল্লাহ আমার জন্য যথেষ্ট এবং সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক। আল্লাহ মহান, অতিশয় মহান।

হাদীসের ভাষ্য : যায়েদ ইবনে আরকাম রাযি. সূত্রে বর্ণিত,

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের পর এ বাক্যগুলোর মাধ্যমে দু‘আ করতেন। (সুনানে আবু দাউদ; হা.নং ১৫১০, মুসনাদে আহমদ; হা.নং ১৯২৯৩)

১৯.

اَللّهُمَّ اغْفِرْ لِيْ خَطَايَايَ وَذُنُوْبِيْ كُلَّهَا اَللّهُمَّ أَنْعِشْنِيْ وَأَجِرْنِيْ وَإهْدِنِيْ لِصَالِحِ الْأَعْمَالِ وَالْأَخْلاَقِ فَإِنَّه لاَيَهْدِيْ لِصَالِحِهَا وَلاَيَصْرِفُ عَنِّيْ سَيِّئَهَا إِلاَّ أَنْتَ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমার যাবতীয় ভুল-ভ্রান্তি এবং পাপ-পঙ্কিলতা ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! আমাকে প্রাণবন্ত করে দাও এবং আমাকে সহায়তা করো এবং সৎকর্ম ও চরিত্র মাধুর্যের দিকে দিকনির্দেশনা দান করো। কারণ আপনি ব্যতীত কেউ সৎকর্মের দিকনির্দেশনা দিতে পারে না এবং আমাকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে পরিত্রাণ দিতে পারে না।

হাদীসের ভাষ্য : আবু উমামা রাযি. বলেন,

আমি যখনই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে নামায পড়েছি তাঁর কাছাকাছি দাঁড়িয়েছি এবং তাঁকে প্রত্যেক নামাযের পর এ দু‘আটি বলতে শুনেছি। (মু’জামে তাবারানী কাবীর; হা.নং ৭৮৯৩, মাজমাউয যাওয়ায়িদ; হা.নং ১৬৯৮২)

২০.  আল্লাহু আকবার এগার বার, আলহামদু লিল্লাহ এগার বার, সুবহানাল্লাহ এগার বার এবং لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ এগার বার পাঠ করবে।

অর্থ : একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই। তাঁর কোনো অংশীদার নেই।

হাদীসের ভাষ্য : আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. সূত্রে বর্ণিত,

একদা দরিদ্র সাহাবীগণ ধনীদের শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অভিযোগ করে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের এসব ধনবান ভাইয়েরা আমাদের মতো ঈমান এনেছে, তারা আমাদের মতো নামায পড়ে, আমাদের মতো রোযা রাখে। অথচ ধনসম্পদের ক্ষেত্রে আমাদের উপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব হয়ে গেছে। তারা দান সদকা করে, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে। আর আমরা হলাম দরিদ্র মানুষ। আমরা এসব কিছু পারি না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি কি তোমাদের এমন বিষয় বলে দেব না যেগুলো সম্পন্ন করলে তোমরাও তাদের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারবে? তোমরা প্রত্যেক নামাযের পর আল্লাহু আকবার এগার বার, আলহামদুলিল্লাহ এগার বার, সুবহানাল্লাহ এগার বার এবংلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ এগার বার পাঠ করবে। এতে করে তোমরাও তাদের মতো শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারবে। এ সংবাদটি ধনবান সাহাবীদের কানে পৌঁছে গেল। সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দরিদ্র সাহাবীদেরকে যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন ধনবান সাহাবীরাও তা পালন করতে লাগল। দরিদ্র সাহাবীরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যা পাঠ করি তারও তা পাঠ করে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা আল্লাহ তা‘আলার শ্রেষ্ঠত্ব। আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছে তাকে দান করেন। তবে তোমাদেরকে সুসংবাদ দিচ্ছি হে দরিদ্র সমাজ! দরিদ্র মুমিনগণ ধনী মুমিনদের পাঁচ শত বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ; হা.নং ৪১২৪, মুসনাদে আব্দ ইবনে হুমাইদ; হা.নং ৭৯৭)

২১.  পাঠ করে দু‘আ করবে

يَا مَنْ لاَتَرَاهُ الْعُيُوْنُ وَلاَتُخَالِطُهُ الظُّنُوْنُ وَلاَيَصِفُهُ الْوَاصِفُوْنَ وَلاَتُغَيِّرُهُ الْحَوَادِثُ وَلاَيَخْشَى الدَّوَائِرَ يَعْلَمُ مَثَاقِيْلَ الْجِبَالِ وَمَكَايِيْلَ الْبِحَارِ وَعَدَدَ قَطْرِ الْأَمْطَارِ وَعَدَدَ وَرَقِ الْأَشْجَارِ وَعَدَدَ مَا أَظْلَمَ عَلَيْهِ اللَّيْلُ وَأَشْرَقَ عَلَيْهِ النَّهَارُ لاَتُوَارِيْ مِنْهُ سَمَاءٌ سَمَاءً وَلاَأَرْضٌ أَرْضًا وَلاَبَحْرٌ مَا فِيْ قَعْرِه وَلاَجَبَلٌ مَا فِيْ وَعْرِه اِجْعَلْ خَيْرَ عُمُرِيْ آخِرَه وَخَيْرَ عَمَلِيْ خَوَاتِمَه وَخَيْرَ أَيَّامِيْ يَوْمَ اَلْقَاكَ فِيْهِ

অর্থ : হে ঐ সত্তা আঁখিযুগল যাকে প্রত্যক্ষ করতে পারে না, ধারণা-কল্পনা যার নাগাল পায় না, গুণকীর্তনকারী যাঁর গুণকীর্তন করে শেষ করতে পারে না, কোনো ঘটনা-দুর্ঘটনা তাঁকে বিচলিত করতে পারে না, কোনো দুর্যোগ-দুর্ঘটনাকে তিনি ভয় করেন না। পর্বতমালার ভারত্ব এবং সমুদ্রের পরিমাপ পরিধি, বৃষ্টির ফোঁটার সংখ্যা, বৃক্ষের পাতার সংখ্যা, যেসব বস্তুর উপর রাত্র আঁধার ছড়ায় এবং দিবস আলো ছড়ায় তার সংখ্যা সম্বন্ধে তিনি অবগত আছেন। তাঁর থেকে কোনো আকাশ কোনো আকাশকে কোনো ভূখ- কোনো ভূখ-কে কোনো সমুদ্র তার গভীরস্থ উপাদানকে, পর্বত তার দুর্গম গাত্রস্থ বস্তুকে আড়াল করতে পারে না। আপনি আমার শেষ জীবনকে উত্তম জীবন করে দিন এবং আমার শেষ কর্মগুলো উত্তম করে দিন এবং সর্বশেষ দিনগুলোকে তোমার সাথে সাক্ষাতের দিবসে উত্তম করে দিন।

হাদীসের ভাষ্য : আনাস রাযি. সূত্রে বর্ণিত,

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা জনৈক বেদুঈন সাহাবীর কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সে এ বাক্যগুলো পাঠ করে নামাযে প্রার্থনা করছিল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক সাহাবীকে দায়িত্ব দিয়ে বললেন, এ লোকটির নামায শেষ হলে তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে। নামায শেষ হলে লোকটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে উপস্থিত হলো। এদিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপঢৌকন হিসেবে কিছু খনিজ স্বর্ণ পেয়েছিলেন। বেদুঈন সাহাবী এলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সে স্বর্ণের টুকরোটি উপহার স্বরূপ প্রদান করলেন। এরপর তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে বেদুঈন তোমার পরিচয় বলো। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি বনী আমির বিন সা’সা‘আ গোত্রের লোক। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি জানো আমি তোমাকে কেন স্বর্ণ উপহার দিয়েছি? সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সাথে আমাদের আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যা, আত্মীয়তার সম্পর্ক তো অবশ্যই আছে। তবে আমি তোমাকে উপহার স্বরূপ স্বর্ণ দিয়েছি আল্লাহর সুন্দর প্রশংসা স্তুতি করার জন্য। (মু’জামে তাবারানী আউসাত; হা.নং ৯৪৪৮)

২২.

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَسْرَفْتُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّى أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি অতীতে, সম্প্রতি, গোপনে, প্রকাশ্যে, মাত্রারিক্তভাবে যে পাপ করেছি এবং আমার যে পাপ সম্বন্ধে আমার চেয়ে আপনি বেশি অবগত সেসব পাপকে আপনি মার্জনা করে দিন। আপনি প্রথমে এবং পরবর্তীতে সম্পাদনকারী। আপনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই।

হাদীসের ভাষ্য : আলী ইবনে আবী তালিব রাযি. সূত্রে বর্ণিত,

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের সালাম শেষে এ দু‘আটি পড়তেন। (সহীহ মুসলিম; হা.নং ১৮৪৯)

প্রতিদিন ফজর এবং মাগরিবের নামাযের পর পাঠ করবে

১.

بِسْمِِ اللَّهِ الَّذِيْ لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأرْضِ وَلا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ العَلِيْمُ

অর্থ : আমি ঐ আল্লাহর নামে সূচনা করছি ভূম-ল এবং নভোম-লে যাঁর নামের উপস্থিতিতে কোনো কিছুই ক্ষতি সাধন করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

হাদীসের ভাষ্য : উসমান ইবনে আফ্ফান রাযি. সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা তিন বার এ দু‘আটি পাঠ করবে পৃথিবীর কোনো কিছু তার ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। (সুনানে তিরমিযী; হা.নং ৩৩৮৮)

২.

(سورة الاخلاص) بسم الله الرحمن الرحيم قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ. اللَّهُ الصَّمَدُ. لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ. وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ.

অর্থ : বল, তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেন নি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয় নি এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।

(سورة الفلق) بسم الله الرحمن الرحيم قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ. مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ. وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ. وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ. وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ.

অর্থ : বল, আমি শরণ নিচ্ছি ঊষার স্রষ্টার তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে, রাত্রির অন্ধকারের অনিষ্ট হতে যখন তা গভীর হয়, সমস্ত নারীদের অনিষ্ট হতে যারা গ্রন্থিতে ফুৎকার দেয় এবং হিংসুকের অনিষ্ট হতে যখন সে হিংসা করে।

(سورة الناس) بسم الله الرحمن الرحيم قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ. مَلِكِ النَّاسِ. إِلَهِ النَّاسِ. مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ. الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ. مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ.

অর্থ : বল, আমি শরণ নিচ্ছি মানুষের প্রতিপালকের, মানুষের অধিপতির, মানুষের ইলাহের, আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে জিনের মধ্য হতে এবং মানুষের মধ্য হতে।

হাদীসের ভাষ্য : (এক) খুবাইব রাযি. বলেন,

একদা আমরা প্রকট অন্ধকারাচ্ছন্ন বৃষ্টি ভেজা রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সন্ধানে বের হলাম, এ উদ্দেশ্যে যে, তিনি আমাদের নিয়ে নামায পড়বেন। ইত্যবসরে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পেয়ে গেলাম। তিনি আমাকে বললেন, বলো। আমি কিছুই বললাম না। এরপর আবার বললেন, বলো। আমি এবারও কিছু বললাম না। এরপর আবার বললেন, বলো। এবার আমি বললাম, আমি কি বলবো? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বলো, قل هو الله أحد (সূরা ইখলাস) এবং মুআউওয়াযাতাইন (‘সূরা ফালাক’ এবং ‘সূরা নাস’)। এ সূরাগুলো সকাল সন্ধ্যা তিনবার পাঠ করবে। সবকিছু থেকে এগুলো তোমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। (সুনানে তিরমিযী, হা.নং ৩৫৭৫)

(দুই) উকবা বিন আমের রাযি. বলেন,

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রত্যেক নামাযের পর মুআউওয়াযাত তথা সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন। (সুনানে আবু দাউদ; হা.নং ১৫২৫)

৩.

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إلَهَ إلَّا أَنْتَ خَلَقْتنِي، وَأَنَا عَبْدُك، وَأَنَا عَلَى عَهْدِك وَوَعْدِك مَا اسْتَطَعْت، أَعُوذُ بِك مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْت، أَبُوءُ لَك بِنِعْمَتِك عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَك بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إلَّا أَنْتَ

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রতিপালক। আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আর আমি হলাম আপনার ভৃত্যÑদাস। আমি যথাসম্ভব আপনার কাছে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী জীবন পরিচালিত করব। আমি যে কর্ম করি তার অনিষ্টতা থেকে আমি আপনার সমীপে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমাকে প্রদত্ত আপনার প্রাচুর্য-আশীষ আমি স্বীকার করি এবং আপনার সাথে কৃত অন্যায় অপরাধের কথা আমি স্বীকার করি। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন। কারণ আপনি ব্যতীত আর কেউ পাপ মার্জনা করতে পারবে না।

হাদীসের ভাষ্য : সাদ্দাদ ইবনে আউস রাযি. সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

এ দু‘আটি হলো ‘সায়্যিদুল ইস্তিগফার’ তথা ক্ষমা প্রার্থনার সর্বোত্তম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ দু‘আ। যদি কোনো ব্যক্তি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে দিনের বেলা এ দু‘আটি পাঠ করে এবং সেদিন সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার পূর্বে মৃত্যুবরণ করে তাহলে সে জান্নাতীদের শ্রেণিভুক্ত হয়ে যাবে। আর যদি রাতের বেলা আত্মবিশ্বাস নিয়ে এ দু‘আটি পাঠ করে এবং সকাল হওয়ার পূর্বে ইন্তেকাল করে তাহলেও সে জান্নাতীদের শ্রেণিভুক্ত হয়ে যাবে। (সহীহ বুখারী; হা.নং ৬৩০৬)

৪.   দশবার পাঠ করবে

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

অর্থ : একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই। তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তাবৎ রাজত্ব তাঁর অধীন। যাবতীয় স্তুতি প্রশংসা তাঁর জন্য। তিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দান করেন। তিনি সকল প্রকার বস্ত-বিষয়ের উপর শক্তিমান।

হাদীসের ভাষ্য : (এক) আবু যর রাযি. সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

যে ব্যক্তি ফজরের পরে পদযুগল ভাঁজ করা অবস্থায় কোনো কথা না বলে এ দু‘আটি দশবার পাঠ করবে তার নামে দশটি পুণ্য লেখা হবে, দশটি পাপ মোচন করা হবে, দশটি পদমর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। এবং সে ঐদিন সকল প্রকার অনাকাক্সিক্ষত বিষয় এবং শয়তানের অনিষ্টতা থেকে নিরাপদ থাকবে। এবং সেদিন একমাত্র শিরক ব্যতীত অন্য কোনো পাপ তার আমলকে বিলুপ্ত করতে পারবে না এবং তার কোনো রূপ ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। (সুনানে তিরমিযী; হা.নং ৩৪৭৪)

(দুই) আম্মারা ইবনে শাবীব রাযি. সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

যে ব্যক্তি মাগরিবের পর দশবার দু‘আটি পাঠ করবে আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য সশস্ত্র প্রহরী পাঠাবে। এ প্রহরী বাহিনী তাকে সকাল পর্যন্ত শয়তানের অনিষ্টতা থেকে নিরাপদ রাখবে এবং আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য জান্নাত আবশ্যক দশটি পুণ্য লিপিবদ্ধ করবেন এবং ধ্বংসাত্মক দশটি পাপ মোচন করবেন এবং দশজন মুমিন দাস মুক্তির পুণ্য তার নামে বরাদ্দ করা হবে। (সুনানে তিরমিযী; হা.নং ৩৫৩৪)

৫.   একশত বার পাঠ করবে

سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ

অর্থ : আমি মহামহিম আল্লাহ তা‘আলার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং তাঁর অসংখ্য পূর্ণাঙ্গতার প্রশংসা করছি।

হাদীসের ভাষ্য : আবু হুরায়রা রাযি. সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

যে ব্যক্তি সকাল বিকাল দু‘আটি একশত বার পাঠ করল পৃথিবীর কোনো সৃষ্টি তার মতো মহৎ কর্ম সম্পন্ন করল না। (সুনানে আবু দাউদ; হা.নং ৫০৯৩)

৬.   سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ

(এক) আবু হুরায়রা রাযি. সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

যে ব্যক্তি সকাল বেলা এবং বিকাল বেলা দু‘আটি একশত বার পাঠ করবে তার যাবতীয় পাপ মোচন করে দেয়া হবে যদিও তার পাপ সমুদ্রের ফেনার চেয়ে অধিক হয়। (সহীহ ইবনে হিব্বান; হা.নং ৮৫৯)

(দুই) আবু হুরায়রা রাযি. সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

যে ব্যক্তি সকাল বেলা এবং বিকাল বেলা দু‘আটি একশত বার পাঠ করবে কিয়ামতের দিন তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ আমল নিয়ে কেউ উপস্থিত হতে পারবে না। তবে যে ব্যক্তি তার মতো দু‘আটি একশত বার পাঠ করবে অথবা অতিরিক্ত আরো পুণ্যের কাজ করবে তার ব্যাপারটি স্বতন্ত্র্য। (সহীহ মুসলিম; হা.নং ৭০১৯)

৭.   সাত বার পাঠ করবে

اللَّهُمَّ أَجِرْنِى مِنَ النَّارِ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দান করুন।

হাদীসের ভাষ্য : হারিস রাযি. বলেন,

একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্জনে আমাকে বললেন, যখন তুমি মাগরিব নামায শেষ করবে তখন কোনো কথা না বলে এ দু‘আটি সাত বার পাঠ করবে। যদি তুমি এ দু‘আটি পাঠ করো এবং সে রাতেই মৃত্যুবরণ করো তাহলে জাহান্নাম থেকে তোমার মুক্তি অবধারিত হয়ে যাবে। এবং যখন তুমি ফজর নামায পড়বে তখনো কোনো কথা না বলে পূর্বোক্ত দু‘আটি সাতবার পাঠ করবে। কারণ তুমি যদি সেদিনই মৃত্যুবরণ করো তাহলে জাহান্নাম থেকে তোমার মুক্তি অবধারিত হয়ে যাবে। (সুনানে আবু দাউদ; হা.নং ৫০৮১, সহীহ ইবনে হিব্বান; হা.নং ২০২২)

৮.

اللَّهُمَّ إِنِّى أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِى الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ اللَّهُمَّ إِنِّى أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِى دِينِى وَدُنْيَاىَ وَأَهْلِى وَمَالِى اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَتِى وَآمِنْ رَوْعَاتِى اللَّهُمَّ احْفَظْنِى مِنْ بَيْنِ يَدَىَّ وَمِنْ خَلْفِى وَعَنْ يَمِينِى وَعَنْ شِمَالِى وَمِنْ فَوْقِى وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِى

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ইহকাল ও পরকালে সুস্থতা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আমার ধর্মীয় এবং জাগতিক ব্যাপারে এবং আমার পরিবার ও ধন-সম্পদের ব্যাপারে সুস্থতা ও অনুকম্পা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমার গোপন বিষয়গুলোকে তুমি লুকিয়ে রাখো এবং আমার সৌন্দর্য্য- কোমনীয়তাকে তুমি নিরাপদ রাখো। হে আল্লাহ! আমার সম্মুখ, পশ্চাৎ, ডান, বাম এবং উপর দিক থেকে আগত বিপদ আপদ থেকে আমাকে রক্ষা করো এবং আমি আপনার মহত্ত্বের শরণ প্রার্থনা করছি আকস্মিক ভূগর্ভস্থ হওয়া থেকে।

হাদীসের ভাষ্য : আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. সূত্রে বর্ণিত,

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল সন্ধ্যা এ দু‘আগুলো কখনো পরিত্যাগ করতেন না। (সুনানে আবু দাউদ; হা.নং ৫০৭৬)

৯.   তিনবার পাঠ করবে

اللَّهُمَّ عَافِنِى فِى بَدَنِى اللَّهُمَّ عَافِنِى فِى سَمْعِى اللَّهُمَّ عَافِنِى فِى بَصَرِى لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমার শরীরে সুস্থতা দান করো। হে আল্লাহ! আমার শ্রবণ শক্তিতে সুস্থতা দান করো। হে আল্লাহ! আমার দৃষ্টিশক্তিতে সুস্থতা দান করো। আপনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই।

হাদীসের ভাষ্য : আবু বাকরাহ রাযি. সূত্রে বর্ণিত,

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল সন্ধ্যা এ দু‘আটি তিনবার পাঠ করতেন। (সুনানে আবু দাউদ; হা.নং ৫০৯২)

প্রতিদিন ফজর নামাযের পর পাঠ করবে

১.

اللَّهُمَّ مَا أَصْبَحَ بي مِنْ نِعْمَةٍ، أَوْ بِأَحَدٍ مِنْ خَلْقِكَ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ، فَلَكَ الحَمْدُ، وَلَكَ الشُّكْرُ

অর্থ : হে আল্লাহ! সকালে আমি অথবা আপনার অন্য কোনো সৃষ্টি যে নিয়ামত-প্রাচুর্য লাভ করেছে তার সবই একমাত্র আপনার পক্ষ থেকে এসেছে। সুতরাং তাবৎ প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আপনার জন্য।

হাদীসের ভাষ্য : আব্দুল্লাহ ইবনে গান্নাম রাযি. সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

যে ব্যক্তি সকাল বেলা এ দু‘আটি পাঠ করবে তার পক্ষ থেকে ঐদিনের শুকর এবং কৃতজ্ঞতা আদায় হয়ে যাবে। (সহীহ ইবনে হিব্বান; হা.নং ৮৬১)

২.   স্বস্থানে বসে জাগতিক কোনো কথাবার্তায় মনোযোগী না হয়ে আল্লাহর যিকর করতে থাকবে। এরপর ইশরাকের সময় চার রাকাআত নামায আদায় করবে।

হাদীসের ভাষ্য : (এক) আয়িশা রাযি. সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

যে ব্যক্তি ফজর নামায পড়ে স্বস্থানে বসে থাকবে এবং জাগতিক কোনো কথা বার্তায় মনোযোগী না হয়ে আল্লাহর জিকির করতে থাকবে এরপর ইশরাকের সময় চার রাকাআত নামায আদায় করবে সে সদ্য ভূমিষ্ট নবজাতকের ন্যায় নিষ্পাপ মানবে পরিণত হয়ে যাবে। (মুসনাদে আবু ইয়া’লা; হা.নং ৪৩৬৫, ইতহাফুল খিয়ারাতিল মাহারাহ; হা.নং ৬০৭৩)

(দুই) আনাস রাযি. সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজর নামায আদায় করবে এরপর সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর যিকর করবে এরপর দু রাকাআত নামায আদায় করবে সে ব্যক্তির আমলনামায় পূর্ণাঙ্গ একটি হজ এবং উমরার সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হবে। (সুনানে তিরমিযী; হা.নং ৫৮৩)

প্রতিদিন মাগরিবের নামাযের পর পাঠ করবে

১.   رَضِيتُ بِالله رَبًّا، وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا

অর্থ : প্রতিপালক হিসেবে আমি আল্লাহর উপর, দীন হিসেবে ইসলামের উপর এবং নবী হিসেবে মুহাম্মদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছি।

হাদীসের ভাষ্য : সাওবান রাযি. সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

যে ব্যক্তি প্রত্যহ সন্ধ্যা বেলা এ দু‘আটি পাঠ করবে আবশ্যিকভাবে আল্লাহ তা‘আলা তাকে সন্তুষ্ট করে দিবেন। (সুনানে তিরমিযী; হা.নং ৩৩৮৯)

২.   মাগরিবের নামাযের পর এবং কোনো বিষাক্ত প্রাণী দংশন করলে তিনবার পাঠ করবে

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ الله التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

অর্থ : আল্লাহ তা‘আলার পরিপূর্ণ শব্দভা-ার তথা পবিত্র নাম, গুণাবলির মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্টির অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় কামনা করছি।

হাদীসের ভাষ্য : (এক) সুলাইমান ইবনে ইয়াসার রাযি. সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

যে ব্যক্তি সন্ধ্যা বেলা দু‘আটি তিনবার পাঠ করবে সে রাতের কোনো দংশনই তাকে ক্ষতি করতে পারবে না। (সুনানে নাসায়ী কুবরা; হা.নং ১০৪২৬)

(দুই) আবু হুরায়রা রাযি. সূত্রে বর্ণিত,

জনৈক সাহাবীকে একদা বিষাক্ত প্রাণী দংশন করে। এতে ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সংবাদটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছলে তিনি বলেন, সে যদি এ দু‘আটি তিনবার পাঠ করে তাহলে তার কোনো ক্ষতি হবে না। (ইমাম তাহাবী রহ., মুশকিলুল আসার; হা.নং ১৪)

লেখক : প্রধান মুফতী, মা’হাদুল বুহুসিল ইসলামিয়া

মুহাদ্দিস, জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া