Fatwa

ফা তা ও য়া – মা সা ই ল

ফতওয়া বিভাগ : মা’হাদুল বুহুসিল ইসলামিয়া, ঢাকা

 

 

রোযা ও ইতিকাফ

 

রোযা

প্রশ্ন : রোযা কত প্রকার ও কি কি প্রত্যেক প্রকারের বিধান জানতে চাই।

উত্তর : রোযা মোট ছয় প্রকার। যথা:

১.       ফরয। যেমন, রমাযানের রোযা, কাফফারার রোযা।

২.       ওয়াজিব। যেমন, মান্নতের রোযা, বিনা কারণে ভেঙ্গে ফেলা নফল রোযা, কাযা রোযা।

৩.       মাসনূন। যেমন, নয় অথবা এগারো তারিখসহ আশুরার রোযা।

৪.       মানদুব। যেমন, প্রতি মাসের তেরো, চৌদ্দ এবং পনেরো তারিখের রোযা, প্রতি সোম এবং বৃহস্পতিবারের রোযা এবং শাওয়ালের ছয় রোযা ইত্যাদি।

৫.       নফল। যেমন, উপরোক্ত রোযা ব্যতীত অন্যান্য দিনের রোযা।

৬.       মাকরূহ। মাকরূহ দুই প্রকার- ১. মাকরূহে তাহরিমী। যেমন, দুই ঈদে এবং আইয়ামে তাশরিকে রোযা পালন করা। ২. মাকরূহে তানযিহী। যেমন, নয় অথবা এগারো তারিখ ব্যতীত শুধু আশুরার দিনের রোযা আদায় করা।

উল্লেখ্য, অবশ্য পালনীয় রোযা মোট তেরো প্রকার। তন্মধ্য হতে সাত প্রকারের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যক। যথা : ১. রমাযানের রোযা ২. কাফফারায়ে কতলের রোযা (হত্যা প্রসূত প্রায়শ্চিত্তের রোযা) ৩. কাফফারায়ে ইয়ামীনের রোযা (শপথ ভঙ্গ প্রসূত প্রায়শ্চিত্তের রোযা) ৪. কাফফারায়ে যেহারের রোযা (স্ত্রীকে মায়ের সাথে তুলনা করার প্রায়শ্চিত্তের রোযা) ৫. ইচ্ছাপূর্বক রমাযানের রোযা ভেঙ্গে ফেলার কাফফারার রোযা ৬. নির্দিষ্ট মান্নতের রোযা ৭. অনির্দিষ্ট মান্নতের রোযা (যদি এ দুই মান্নতের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতার নিয়ত করা হয়ে থাকে)। তবে প্রথম প্রকার এবং সপ্তম প্রকার ব্যতীত বাকি পাঁচ প্রকার রোযার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা ভেঙ্গে ফেলা হলে নতুন করে শুরু থেকে রোযাগুলো ধারাবাহিকভাবে পালন করতে হবে। রমাযানের রোযা এবং নির্দিষ্ট মান্নতের রোযার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা না হলে রোযাগুলো শুরু থেকে পালন করতে হবে না। আর বাকি ছয় প্রকার রোযার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যক নয়। ছয় প্রকার রোযা হলো, ১. রমাযানের কাযা রোযা ২. মুত‘আর রোযা (হজ্জে তামাত্তুর ক্ষেত্রে কুরবানী পালন না করার রোযা) ৩. সময় আসার পূর্বে মাথা মু-ানোর রোযা ৪. পশু শিকারের বিনিময়ে রোযা ৫. ধারাবাহিকতার না করা মান্নতের রোযা ৬. শপথের রোযা। (‘সূরা বাকারা’- ১৯৫, ‘সূরা মায়িদা’- ৯৪, সহীহ বুখারী; হা.নং ১৯২৪, ১৯৭৫, ১৯৮১, ১৯৯০, ১৯৯৮,২০০১, সহীহ মুসলিম; হা.নং ১১৩৪, ১১৬২, সুনানে আবু দাউদ; হা.নং ২৪৫১, ফাতহুল কাদীর ২/৩০৬, রদদুল মুহতার ৭/৩২৮, হাশিয়াতুত তহতবী আলা মারাকিল ফালাহ; পৃষ্ঠা ৬৩৮, আলমউসূআতুল ফিকহিয়্যা আলকুওয়াইতিয়্যাহ ২৮/৮, ৯)

প্রশ্ন : কি কি কারণে রোযা ভেঙ্গে যায় এবং শুধু কাযা ওয়াজিব হয় জানতে চাই।

উত্তর : যেসব কারণে রোযা ভেঙ্গে যায় এবং শুধু কাযা ওয়াজিব হয় তা নি¤েœ প্রদত্ত হলো-

১.       কানে বা নাকে ওষুধ ব্যবহার করা।

২.       ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ভরে বমি করা।

৩.       কুলি করার সময় অনিচ্ছাবশত কণ্ঠনালীতে পানি চলে যাওয়া।

৪.       স্ত্রী বা কোনো নারীকে স্পর্শ জাতীয় কিছু করার কারণে বীর্যপাত হওয়া।

৫.       কাঠ, লোহা জাতীয় অনাহার্য জিনিস আহার করা।

৬.       বিড়ি, সেগারেট বা হুক্কা পান করা।

৭.       আগরবাতি প্রভৃতির ধোঁয়া ইচ্ছাকৃতভাবে নাকে গ্রহণ করা।

৮.       ভুলে পানাহার করার পর রোযা ভেঙ্গে গেছে বলে মনে করে আবার পানাহার করা।

৯.       রাত আছে মনে করে সুবহে সাদিকের পর সেহরী খাওয়া।

১০.     দিন বাকি থাকতে ইফতারীর সময় হয়ে গেছে মনে করে ইফতারী করে ফেলা।

১১.      দ্বিপ্রহরের পর রোযার নিয়ত করা।

১২.     থুথুর সাথে রক্তের পরিমাণ বেশি হয়ে কণ্ঠনালীর নিচে চলে যাওয়া।

১৩.     জোরপূর্বক রোযাদারের মুখে কোনো কিছু প্রবেশ করিয়ে দেয়ার পর তা কণ্ঠনালীর নিচে পৌঁছে যাওয়া।

১৪.     দাঁতে আটকে থাকা ছোলা-বুট পরিমাণ খাদ্যকণা গিলে ফেলা।

১৫.     হস্ত মৈথুনের ফলে বীর্যপাত হওয়া।

১৬.     প্রশ্রাবের রাস্তায় বা স্ত্রীর যোনিতে ওষুধ প্রবেশ করানো।

১৭.     পানি বা তেল আদ্রিত ভিজা আঙ্গুল যোনিতে বা পায়খানার রাস্তায় প্রবেশ করানো।

১৮.     শুকনো আঙ্গুল প্রবেশ করিয়ে পুরোটা বা কিছুটা বের করে আবার প্রবেশ করানো।

১৯.     মুখে পান রেখে ঘুমন্ত অবস্থায় সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়া।

২০.     নস্যি গ্রহণ করা বা কানে তেল ঢালা।

২১.     রোযার নিয়ত না করা।

২২.     স্ত্রীর বেহুঁশ কিংবা অসচেতন অবস্থায় তার সাথে সহবাস করা।

২৩.     রমাযান ব্যতীত অন্য নফল রোযা ভেঙ্গে ফেললেও শুধু কাযা ওয়াজিব হয়।

২৪.     এক দেশে রোযা শুরু করার পর অন্য দেশে চলে গেলে সেখানে যদি নিজের দেশের তুলনায় আগে ঈদ হয়ে যায় তাহলে নিজের দেশের হিসেবে যে কয়টা রোযা বাদ পড়ে গেছে তার কাযা করতে হবে। আর যদি সেখানে গিয়ে রোযা এক দুটো বেড়ে যায় তাহলে তা রাখতে হবে। (ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৭৬, ৩৮৫, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০২,২০৩,২০৪, ২০৫, হাশিয়াতুত তহতবী আলা মারাকিল ফালাহ; পৃষ্ঠা ৬৬৪, ৬৭৫, ৬৭৬, মাসায়েলে রোযা; পৃষ্ঠা ৬৪, ৬৮, ৭৪, ৭৬, ৭৭, ৭৮, ৭৯, ৮৩, ১১৩।

প্রশ্ন : কি কি কারণে রোযা ভেঙ্গে যায় এবং কাযা কাফফারা উভয়টি ওয়াজিব হয় জানতে চাই।

উত্তর : যেসব কারণে রোযা ভেঙ্গে যায় এবং কাযা কাফফারা উভয়টি ওয়াজিব হয় তা হলো নি¤œরূপ-

১.       রোযার নিয়ত করার পর ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করা।

২.       রোযার নিয়ত করার পর ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী সম্ভোগ করা।

৩.       রোযার নিয়ত করার পর পাপ হওয়া সত্ত্বেও পায়ুপথে স্ত্রী সম্ভোগ করা।

৪.       রোযা অবস্থায় কোনো বৈধ কাজ করার পর রোযা ভেঙ্গে গেছে মনে করে ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করা। (ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৭৬, ৩৮৫, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৫, ২০৬, হাশিয়াতুত তহতবী আলা মারাকিল ফালাহ; পৃষ্ঠা ৬৬৪, মাসায়েলে রোযা; পৃষ্ঠা ৬৪, ৬৮, ৭৪, ৭৬, ৮৪, ১১৩)

প্রশ্ন : কি কি কারণে রোযা মাকরূহ হয়ে যায় জানতে চাই।

উত্তর : যেসব কারণে রোযা মাকরূহ হয়ে যায় তা নি¤েœ প্রদত্ত হলো-

১.       বিনা প্রয়োজনে কোনো জিনিস চর্বন করা।

২.       তরকারী ইত্যাদির স্বাদ বা লবণ পরখ করা।

৩.       দাঁত মাজার জন্য মাজন, কয়লা, গুল বা টুথপেস্ট ব্যবহার করা।

৪.       গোসল ফরয অবস্থায় সারা দিন অতিবাহিত করা।

৫.       কোনো রোগীর জন্য নিজের রক্ত দেয়া।

৬.       দোষচর্চা, ছিদ্রান্বেষণ, মিথ্যা কথা বা অনর্থক কথা বার্তা বলা।

৭.       বকা ঝকা বা ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হওয়া।

৮.       ক্ষুৎপিপাসার কারণে অস্থিরতা প্রকাশ করা।

৯.       অধিক পরিমাণ থুথু একত্র করে গিলে ফেলা।

১০.     দাঁতে আটকে থাকা ছোলা বুটের চেয়ে ছোটো খাদ্য কণা মুখের ভিতরে থাকাবস্থায় গিলে ফেলা। মুখ থেকে বের করে গিলে ফেললে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে।

১১.      নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা না থাকার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও স্ত্রীকে চুম্বন ও আলিঙ্গন করা।

১২.     নিজের মুখে চিবিয়ে কোনো কিছু শিশুর মুখে তুলে দেয়া।

১৩.     মলদ্বার এত পরিমাণ ধৌত করা যাতে ভিতরে পানি পৌঁছে যাওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়ে যায়।

১৪.     ঠোটে লিপিষ্টিক লাগানোর ফলে মুখের ভিতরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা হওয়া। (সহীহ বুখারী; হা,নং ১৯২৭, আলমউসূআতুল ফিকহিয়্যা আলকুওয়াইতিয়্যাহ ২৮/৬৮, ৭১, মাসায়েলে রোযা; পৃষ্ঠা ৬৬, ৬৭, ১২১, ১৬২)

প্রশ্ন : রোযার কাফফারা আদায়ের পদ্ধতি কি জানতে চাই।

উত্তর :

ক্স       একটি রোযার কাফফারার জন্য ৬০টি রোযা পালন করতে হয়। এই ৬০টি রোযা একাধারে রাখা আবশ্যক। মাঝখানে এক দুটি ছুটে গেলে পুনরায় একাধারে ৬০টি রোযা রাখতে হবে। এই ৬০ দিনের মাঝে রমাযান বা প্রসূতি অবস্থা (নিফাস) এসে গেলে কাফফারা আদায় হবে না।

ক্স       কাফফারার রোযা এমন দিন থেকে আরম্ভ করবে যাতে মাঝে কোনো নিষিদ্ধ দিন এসে না যায়। উল্লেখ্য, পাঁচ দিন রোযা রাখা নিষিদ্ধ বা হারাম। আর তা হলো, ঈদুল ফিতরের একদিন এবং ঈদুল আযহার সময় যিলহজের তেরো তারিখসহ ঈদের তিন দিন।

ক্স       কাফফারার রোযা পালনকালে ঋতুশ্রাবের কারণে যে বিরতি হবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই।

ক্স       কাযা রোযার ন্যায় কাফফারার রোযার নিয়তও সুবহে সাদিকের পূর্বে হওয়া আবশ্যক।

ক্স       যদি সহবাসের কারণে এক বা একাধিক রমাযানের একাধিক রোযা নষ্ট হয়ে যায় তাহলে প্রতিটি রোযার জন্য আলাদা কাফফারা আদায় করতে হবে। পক্ষান্তরে অন্য কোনো কারণে যদি এমনটি হয় তাহলে একটি কাফফারাই যথেষ্ট হবে।

ক্স       কাফফারার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক ৬০ দিন রোযা রাখা সম্ভব না হলে পূর্ণ আহার গ্রহণ করতে পারে এমন ৬০ জন সত্যিকার দরিদ্র ব্যক্তিকে অথবা একজনকে ৬০ দিন দু বেলা করে পরিতৃপ্তসহকারে আহার করাতে হবে। নতুবা সদকায়ে ফিতর পরিমাণ খেজুর, কিসমিস, গম বা তার মূল্য প্রত্যেককে দিয়ে দিতে হবে। এই গম বা মূল্য দেয়ার ক্ষেত্রে একজনকে ৬০ দিনেরটা একই দিনে দিয়ে দিলে কাফফারা আদায় হবে না। ৬০ দিন আহার করানো বা মূল্য দেয়ার ক্ষেত্রে ২/১ দিন বিরতি পড়লে কোনো ক্ষতি নেই। (রদ্দুল মুহতার ৩/৩৯০,৩৯১,৩৯২, ৪/৩৪৪, হাশিয়াতুত তহতবী আলা মারাকিল ফালাহ; পৃষ্ঠা ৬৭০, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ১৫/২০০, মাসায়েলে রোযা; পৃষ্ঠা ৯৮)

প্রশ্ন : রোযার ফিদয়ার বিধান এবং পরিমাণ জানতে চাই।

উত্তর :

ফিদয়া অর্থ ক্ষতিপূরণ। রোযা আদায় করতে না পারলে কিংবা কাযা আদায় করতে সক্ষম না হলে যে ক্ষতিপূরণ দিতে হয় তাকে ফিদয়া বলে। প্রতিটি রোযার পরিবর্তে সদকায়ে ফিতর পরিমাণ পণ্য বা তার মূল্য দান করাই হলো একটি রোযার ফিদয়া।

যে ব্যক্তির দায়িত্বে রোযা রয়ে গেছে; জীবদ্দশায় আদায় হয়নি, মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীগণ ফিদয়া আদায় করে দিবে। আর যদি মৃত ব্যক্তি ওসিয়ত বা উইল করে যায় তাহলে তার পরিত্যাক্ত সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ থেকে ফিদয়া আদায় করবে। আর যদি ওয়াসিয়ত না করে যায় এবং ওয়ারিশগণ নিজেদের সম্পত্তি থেকে ফিদয়া আদায় করে দেয় তবুও আশা করা যায় আল্লাহ তা কবুল করবেন এবং মৃত ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিবেন।

বার্ধক্য জনিত কিংবা দীর্ঘ মেয়াদী কোনো দুরারোগ্যের কারণে পূর্ণ সুস্থতার সম্ভাবনা না থাকলে প্রত্যেক রোযার পরিবর্তে ফিদয়া আদায় করার অবকাশ রয়েছে। তবে এ ধরনের ব্যক্তি যদি পুনরায় কখনো রোযা রাখার সক্ষমতা লাভ করে তবে তকে রোযা কাযা করতে হবে এবং দানকৃত ফিদয়ার সওয়াব সে পৃথকভাবে লাভ করবে। (‘সূরা বাকারা’- ১৮৪, বাদায়িউস সানায়ে’ ২/২৫২, আদদুররুল মুখতার ৩/৪০৭)

প্রশ্ন : যদি কোনো ব্যক্তি শাওয়ালের বিশেষ ছয় রোযার মধ্যে কাযা রোযার নিয়ত করে তাহলে একত্রে ফরয রোযার কাযা এবং শাওয়ালের নফল রোযা আদায় হবে কি না?

উত্তর : শাওয়ালের বিশেষ ছয় রোযার মধ্যে কাযা রোযার নিয়ত করলে কাযা রোযাই আদায় হবে, শাওয়ালের নফল রোযা আদায় হবে না। হাদীসে শাওয়ালের রোযার যে ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে তা-ও পাওয়া যাবে না; বরং তার জন্য শাওয়াল মাসের মধ্যে পৃথক ছয়টি রোযা রাখতে হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৭, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৪৩০)

প্রশ্ন : রমাযান মাসে শিশু সন্তানকে দুগ্ধ দানকারিণী মহিলার জন্য রমাযানের রোযা রাখা জায়েয হবে কি?

উত্তর : দুগ্ধ দানকারিণী মহিলা রোযা রাখার দ্বারা যদি নিজের বা সন্তানের জীবনের আশঙ্কা বোধ করে অথবা যদি দুধ শুকিয়ে যাওয়ার ভয় হয় যার দ্বারা সন্তানের কষ্ট হবে তাহলে উক্ত মহিলার জন্য রোযা না রাখার অবকাশ রয়েছে। তবে পরবর্তীতে রোযাগুলো কাযা করে নিতে হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৭, বাদায়িউস সানায়ে’ ২/২৫০, ফাতাওয়া রহীমিয়া ৭/২৭০, মাসাইলে রোযা; পৃষ্ঠা ১১৯)

প্রশ্ন : রমাযান মাসের শেষ দশ দিনের ই’তিকাফের হুকুম কী?

উত্তর : রমাযানের শেষ দশ দিনের ই’তিকাফ সুন্নাতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া। সুতরাং কোনো একজন মহল্লার মসজিদে ই’তিকাফে বসলে মহল্লার সকলের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। আর কেউ না বসলে মহল্লার সকলেই সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ পরিত্যাগ করার গোনাহগার হবে। (আদদুররুল মুখতার ২/৪৪১, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২১, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১৫/২৫৭, ২৫৮)

প্রশ্ন : রোযা রাখা অবস্থায় রক্ত গ্রহণ করলে কি রোযা ভেঙে যাবে?

উত্তর : রোযা রাখা অবস্থায় রক্ত গ্রহণ করলে রোযার কোনো ক্ষতি হয় না। (রদ্দুল মুহতার ২/১৮, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৩, আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৯, আলহিদায়া ১/২০০, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৭৯, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৩, ফাতাওয়া হাক্কানিয়া ৪/১৬৪, ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০৫, ফাতাওয়া উসমানী ১/১৮১)

প্রশ্ন : রমাযান মাসে যে নারীর জন্য রোযা রাখা নিষিদ্ধ সে নারী কি পানাহার করতে পারবে নাকি রোযাদারদের ন্যায় দিন অতিবাহিত করবে?

উত্তর : যে সকল মহিলারা শরঈ ওযরের কারণে রমাযান মাসে রোযা রাখতে পারে না তাদের জন্য রোযাদারদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা জায়েয নেই; বরং তারা পানাহার করবে। তবে প্রকাশ্যে মানুষের সামনে পানাহার করবে না। (মারাকিল ফালাহ; পৃষ্ঠা ৬৭৮, ইমদাদুল আহকাম ২/১৩৯, ফাতাওয়া রহীমিয়া ৬/২৬১)

প্রশ্ন : গোসল ফরয অবস্থায় সাহরী খাওয়ার হুকুম কী?

উত্তর : গোসল ফরয অবস্থায় সাহরী খাওয়া জায়েয আছে। তবে খাওয়ার পূর্বে কুলি করে নিবে, অন্যথায় মাকরূহ হবে। তবে বিনা কারণে ফরয গোসলে বিলম্ব করা উচিত নয়। (রদ্দুল মুহতার ১/১৭৫, ফাতাওয়া হাক্কানিয়া ৪/৫৩৫, খাইরুল ফাতাওয়া ৪/৭৫)

প্রশ্ন : যদি কোনো ব্যক্তি রমাযান মাসে রোযা রেখে স্ত্রী সহবাস করে, কিন্তু তার জানা ছিল না যে, স্ত্রী সহবাসের দ্বারা রোযা ভেঙে যায় তাহলে তার উপর কাযা কাফ্ফারা উভয়টাই ওয়াজিব হবে কি না?

উত্তর : কেউ যদি রমাযান মাসে রোযা রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী সহবাস করে তাহলে তার উপর কাযা কাফ্ফারা উভয়টাই ওয়াজিব হবে। আর এক্ষেত্রে মাসআলা না জানা ওযর হিসেবে বিবেচিত হবে না। তবে যদি সে ‘দারুল হারব’ তথা যুদ্ধ কবলিত দেশে থাকে এবং মাসআলা জানার কোনো ব্যবস্থা না থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে মাসআলা না জানা ওযর হিসেবে বিবেচিত হবে। (‘সূরা নিসা’- ১৭, সহীহ মুসলিম; হা.নং ১১১১, সুনানে ইবনে মাজাহ; হা.নং ২২৪, মিশকাত শরীফ; হা.নং ২১৮, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩০৫, আদদুররুল মুখতার ২/৪০৯, আলহিদায়া ২/৩১৭, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৩০, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৪৪৪, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১৫/১৮২)

প্রশ্ন : কোনো ব্যক্তি যদি অসুস্থতার কারণে রোযা রাখতে সক্ষম না হয় এবং ঐ অবস্থায়ই মারা যায় তাহলে তার ছুটে যাওয়া রোযাগুলোর ফিদয়া দেয়া কি ওয়াজিব?

উত্তর : না, এক্ষেত্রে তার ছুটে যাওয়া রোযাগুলোর ফিদয়া দেয়া ওয়াজিব নয়। (আদদুররুল মুখতার ৩/৪০৬, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৭, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১৫/২১৭)

প্রশ্ন : জনৈক ব্যক্তি রমাযান মাসে যোহরের পর মুসলমান হলো। এখন তার জন্য কি ঐ দিনের রোযা কাযা করতে হবে?

উত্তর : কোনো ব্যক্তি যদি রমাযান মাসে যোহরের পর মুসলমান হয় তাহলে তার জন্য ঐ দিনের রোযা কাযা করতে হবে না। এমনকি ফজরের পূর্বেও যদি মুসলমান হয় তবুও ঐ দিনের রোযা কাযা করতে হবে না। তবে দিনের বাকী সময় রোযাদারের মতো অনাহারে থাকবে। (বাদায়িউস সানায়ে’ ২/২৩৩, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪২৯, আলবাহরুর রায়েক ২/৫০৪)

প্রশ্ন : ফিদয়া কখন কিভাবে দিতে হয় এবং এর পরিমাণ কত?

উত্তর : মৃত্যুকালে কোনো ব্যক্তির দায়িত্বে যদি কোনো ফরয, ওয়াজিব নামায কিংবা রোযা কাযা থেকে যায় এবং মৃত্যুর পূর্বে সে ঐ নামায বা রোযার ফিদয়া আদায়ের ব্যাপারে অসিয়ত করে যায় তাহলে ওয়ারিসদের জন্য তার মীরাসের এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে ফিদয়া আদায় করা ওয়াজিব। আর যদি ফিদয়া আদায়ের জন্য এক তৃতীয়াংশ সম্পদের বেশির প্রয়োজন হয় তাহলে এক্ষেত্রে অন্যান্য ওয়ারিসদের অনুমতি আবশ্যক।

এক ওয়াক্ত নামায ও একটি রোযার নির্ধারিত ফিদয়ার পরিমাণ হলো, আধা সা’ তথা পৌনে দুই সের গম/আটা কিংবা সমমূল্যের অর্থ। বিত্রসহ দৈনিক ছয় ওয়াক্ত নামায হিসেবে ফিদয়া আদায় করতে হবে। একজন হতদরিদ্র ব্যক্তিকে একাধিক বা সমস্ত ফিদয়া দেয়ার অবকাশ রয়েছে। তবে এক ব্যক্তিকে এক ফিদয়ার কম দেয়া জায়েয নেই। (রদ্দুল মুহতার ২/৫৩২, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৫, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১১/৪৬৭, ৪৬৯)

প্রশ্ন : জনৈক ব্যক্তি রমাযান মাসে রোযা রাখার নিয়তে সাহরী খেল। অতঃপর সে দিনের বেলা বললো, আজকের দিনের রোযা রাখব না। এই বলে সে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো প্রকার ওযর ছাড়াই খানা খেল। তাহলে তার হুকুম কি?

উত্তর : উক্ত ব্যক্তির জন্য বিনা ওযরে এভাবে ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা ভঙ্গ করা সম্পূর্ণ নাজায়েয হয়েছে। তাকে উক্ত রোযার কাযা ও কাফ্ফারা উভয়টিই আদায় করতে হবে। আর কাফ্ফারা হলো, একজন গোলাম আযাদ করা, যদি গোলাম আযাদ করতে সক্ষম না হয় তাহলে ধারাবাহিকভাবে দুই মাস রোযা রাখবে। আর যদি রোযা রাখতেও সক্ষম না হয় তাহলে ষাট জন মিসকীনকে দুই বেলা খানা খাওয়াবে। সাথে সাথে তওবা ইস্তিগফারও করতে থাকবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৫, আদদুররুল মুখতার ৩/৩৯০, ফাতাওয়া হাক্কানিয়া ৪/১৭২, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৪২৫, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১৫/১৯৯)

 

তিকাফ

প্রশ্ন : ই’তিকাফ কি ও কত প্রকার এবং এর জন্য কি কি শর্ত প্রযোজ্য?

উত্তর :

ই’তিকাফ অর্থ স্থির থাকা, অবস্থান করা। পরিভাষায় জাগতিক যাবতীয় কার্যকলাপ ও পরিবার পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পূণ্য লাভের উদ্দেশে মসজিদ বা ঘরের নির্দিষ্ট জায়গায় অবস্থান করাকে ই’তিকাফ বলা হয়।

ই’তিকাফ তিন প্রকার। যথা,

১.       ওয়াজিব। যেমন, মান্নতের ই’তিকাফ। এ ই’তিকাফের জন্য রোযা শর্ত।

২.       সুন্নতে মুয়াক্কাদা কেফায়া। যেমন, রমাযানের শেষ দশকে ই’তিকাফ করা। অর্থাৎ বড়ো গ্রাম বা শহরের প্রত্যেকটা মহল্লা এবং ছোটো গ্রামের পূর্ণ বসতিতে এক দুজন ই’তিকাফ করলে সকলেই দায়মুক্ত হয়ে যাবে। আর কেউ ই’তিকাফ না করলে সুন্নত পরিত্যাগের জন্য সবাই দায়ী হবে। বিশ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব থেকে ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা পর্যন্ত এ ই’তিকাফের সময়।

৩.       মুস্তাহাব। যেমন, ওয়াজিব, সুন্নত ই’তিকাফ ব্যতীত যে কোনো সময় ই’তিকাফ করা। এর জন্য কোনো সময় নির্ধারিত নেই। সামান্য সময়ের জন্যও এ ই’তিকাফ হতে পারে। এ ই’তিকাফের কোনো কাযা নেই। (সহীহ বুখারী; হা.নং ২০২৬, ৪৯৯৮, সুনানে আবু দাউদ; হা.নং ২৪৭৩, আদদুররুল মুখতার ৩/৪২৯-৪৩৪, বাদাইয়ুস সানায়ি’ ২/২৭৫, হাশিয়াতুত তহতবী আলা মারাকিল ফালাহ; পৃষ্ঠা ৬৯৯, ৭০০, ৭০১)

প্রশ্ন : ই’তিকাফের জন্য কি কি শর্ত প্রযোজ্য?

উত্তর : ই’তিকাফের জন্য পাঁচটি শর্ত প্রযোজ্য। যথা :

১.       মুসলিম হতে হবে।

২.       বিবেচনা বোধসম্পন্ন হতে হবে।

৩.       সুন্নত ও ওয়াজিব ই’তিকাফ এমন মসজিদে হতে হবে যেখানে জামাআতের সাথে নামায আদায় হয়। এ শর্ত পুরুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মহিলাগণ ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে ই’তিকাফ করবে।

৪.       ই’তিকাফের নিয়ত করতে হবে।

৫.       ঋতুস্রাব বা প্রসূতি অবস্থা থেকে মুক্ত হতে হবে। (সহীহ বুখারী; হা.নং ৪৯৯৮, সুনানে আবু দাউদ; হা.নং ২৪৭৩, আদদুররুল মুখতার ৩/৪২৯-৪৩৪, বাদাইয়ুস সানায়ি’ ২/২৭৫, হাশিয়াতুত তহতবী আলা মারাকিল ফালাহ; পৃষ্ঠা ৬৯৯, ৭০০, ৭০১)

প্রশ্ন : কি কি কারণে ই’তিকাফ নষ্ট হয়ে যায়?

উত্তর : যেসব কারণে ই’তিকাফ নষ্ট হয়ে যায় তা নি¤œরূপ-

১.       স্ত্রী সহবাস করা।

২.       চুম্বন ও আলিঙ্গনের কারণে বীর্যপাত হওয়া।

৩.       ই’তিকাফের স্থান থেকে শরীয়ত সম্মত বা প্রাকৃতিক প্রয়োজন ব্যতীত বের হওয়া।

৪.       ধর্মচ্যুত হওয়া।

৫.       মাতাল হওয়া।

৬.       দীর্ঘ সময় অজ্ঞান ও উন্মাদ হয়ে থাকা।

৭.       ঋতুশ্রাব ও প্রসূতি অবস্থা সৃষ্টি হওয়া।

৮.       সুন্নত এবং ওয়াজিব ই’তিকাফের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছায় দিনের বেলা আহার করা। (আলফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহ ২/৬৩২, রদ্দুল মুহতার ৩/৪৩৭, ৪৪২, ফাতাওয়া দারুল উলূম দেওবন্দ ৬/৫০৫)

প্রশ্ন : যদি কোনো মু’তাকিফ (ই’তিকাফকারী) প্রাকৃতিক প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হয়ে কোনো কথাবার্তা বলে তাহলে তার ই’তিকাফের কোনো ক্ষতি হবে কি?

উত্তর : যদি কোনো মু’তাকিফ শরীয়ত অনুমোদিত কোনো প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হয় এবং কারো সাথে দু-একটি কথা বলে তাহলে ই’তিকাফ বাতিল হবে না। তবে যদি বিনা প্রয়োজনে মসজিদের বাহিরে দাঁড়িয়ে শুধু শুধু গল্প-গুজব করতে থাকে তাহলে ই’তিকাফ বাতিল হয়ে যাবে। (মারাকিল ফালাহ; পৃষ্ঠা ৭০২, রদ্দুল মুহতার ২/৪৪৫, ফাতাওয়া হাক্কানিয়া ৪/২০৪, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১৫/২৯১)

প্রশ্ন : হাদীসে এসেছে, لا اعتكاف الا بصوم (রোযা ব্যতীত কোনো ই’তিকাফ হয় না)। এতদসত্ত্বেও কিছু লোক তাবলীগের কাজ করে আর রোযাবিহীন অবস্থায় মসজিদে ই’তিকাফের নিয়তে থাকে, খাওয়া-দাওয়া করে। আমার প্রশ্ন হলো, তাদের রোযাবিহীন ই’তিকাফ ও মসজিদে থাকা খাওয়ার হুকুম কি?

উত্তর : ওয়াজিব এবং সুন্নাত ই’তিকাফের জন্য রোযা রাখা শর্ত। যেমনটি হাদীস শরীফে এসেছে। কিন্তু নফল ই’তিকাফের জন্য রোযা রাখা জরুরি নয়। সুতরাং তাবলীগ জামা‘আতের ভাইদের জন্য নফল ই’তিকাফের নিয়তে রোযাবিহীন অবস্থায় মসজিদে থাকা খাওয়া জায়েয আছে। (উমদাতুল কারী শরহুল বুখারী [মাকতাবায়ে শামেলা সংস্করণ] ১৭/১৮৭, আদদুররুল মুখতার ২/৪৪২, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১১, আলবাহরুর রায়েক ২/৫২৩, ফাতাওয়া রহীমিয়া ৭/২৭৬, ফাতাওয়া হাক্কানিয়া ৪/১৯৬, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১৫/২৫২)

প্রশ্ন : কোনো ই’তিকাফকারী যদি জানাযার নামায পড়ার জন্য মসজিদ থেকে বের হয় তবে তার ই’তিকাফের হুকুম কি?

উত্তর : উক্ত ই’তিকাফকারীর ই’তিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। (রদ্দুল মুহতার ২/৪৪৮, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১২, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১৫/২৮৬)

প্রশ্ন : যদি কোনো ব্যক্তি ই’তিকাফ অবস্থায় দিনের বেলায় চাকরিতে যোগদান করে এবং রাতে মসজিদে অবস্থান করে তাহলে তার ই’তিকাফ সহীহ হবে কি না?

উত্তর : ই’তিকাফ অবস্থায় প্রাকৃতিক প্রয়োজন যেমন, পেশাব-পায়খানা অথবা শরঈ প্রয়োজন যেমন, জুম‘আর নামাযে শরীক হওয়া ইত্যাদি ব্যতীত মসজিদের বাইরে যাওয়া নিষেধ। সুতরাং যদি কোনো ব্যক্তি ই’তিকাফ অবস্থায় দিনের বেলায় নিজ কর্মস্থলে যোগদান করে এবং রাতে মসজিদে থাকে তাহলে তার ই’তিকাফ ভেঙ্গে যাবে; সহীহ হবে না। তাকে পুনরায় কাযা করতে হবে। এটা ওয়াজিব এবং রমাযানের ই’তিকাফের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নফল ই’তিকাফের ক্ষেত্রে বাইরে যাওয়া জায়েয আছে। (আদদুররুল মুখতার ২/৪৪৪, ৪৪৬, রদ্দুল মুহতার ২/৪৪৫, আলবাহরুর রায়েক ২/৫২৭, ফাতাওয়া রহীমিয়া ৭/২৮৩)